চৌগাছায় টিকা নিতে আগ্রহ বাড়ছে

0
76

শ্যামল দত্ত, চৌগাছা

যশোরের চৌগাছায় করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। সর্বশেষ সাতদিনে প্রতিদিন গড়ে ২৬০ জন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে টিকা নিয়েছেন। উপজেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার ব্যক্তি টিকা নেয়ার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করে এসএমএস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে ১২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৭দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে টিকা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৮ জন। সিনোফার্মার টিকা আসার পর প্রথম ৭দিন ১২ জুলাই ২৮ জন, ১৩ জুলাই ৮৪, ১৪ জুলাই ১২৪, ১৫ জুলাই ১৬৮, ১৭ জুলাই ১৮৬ এবং ১৮ জুলাই টিকা নেন ১৬৬ জন। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা। শেষ ৭দিন ২৯ জুলাই ১৭৮, ৩১ জুলাই ২৭৮, ১ আগস্ট ২৬৬, ২ আগস্ট ২৭৮, সর্বশেষ ৩ আগস্ট ২৩৪ জন, ৪ আগস্ট ৩৪০ জন এবং সর্বশেষ ২৪৬ জন টিকা নিয়েছেন ।

সোমবার দুপুর ১ টা ৪৬ মিনিটে হাসপতাল থেকে টিকা নেন শহরের ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথম দিকে টিকা দেয়া নিয়ে নানা রকম শংকা ছিল। এজন্য টিকা নিতে একটু দ্বিধা করছিলাম। আমার শরীরে কিছু সমস্যা থাকায় নিয়মিত ভারতে চিকিৎসার জন্য যাই। করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে দেখলাম যারা টিকা নিয়েছিলেন তাদের দু’একজনের করোনা হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান বাজারের একটি কম্পিউটার দোকান থেকে রেজিষ্ট্রেশন করেছিলাম। মোবাইলে এসএমএস পেয়ে টিকা নিয়েছি। ’

রোববার টিকা নেয়া শহরের নিরিবিলি পাড়ার বাসিন্দা সুব্রত রায় বলেন, আমার ছোট ভাই কম্পিউটারে রেজিষ্ট্রেশন করেছে। হাসপতাল থেকে টিকা নিয়েছি। কোন বিড়ম্বনা হয়নি। টিকা নেয়ার পর শরিরে তেমন কোন সমস্যা দেখা যায়নি।

হাজরাখানা গ্রামের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যেন সহজে টিকা নিতে পারেন সেজন্য স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা নিয়ে একদিনে ৬০০ জনের রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়েছি।

এদিকে আগামী ৭ আগস্ট উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সাধারণ মানুষকে টিকা দেয়ার ঘোষণায় গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকা নিতে উৎসাহ দেখা গেছে। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন আমরা গ্রামের বাসিন্দা। প্রযুক্তির ব্যবহার সেভাবে বুঝিনা। ৭ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে টিকা দেয়া হবে। সেখানে যেয়ে টিকা নেব। ইউনিয়ন পরিষদে যেয়ে টিকা নেয়ার ইচ্ছার কথা জানান স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামের মিঠু, সিংহঝুলি গ্রামের টনিরাজসহ আরো কয়েকজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি জানান, টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এসএমএস না পেলেও অনেকে টিকা নিতে হাসপাতালে আসছেন। তিনি জানান যে টিকা পেয়েছেন তাতে ৫ হাজার ৪ জনের টিকা যাওয়ার কথা। এরমধ্যে ৩ হাজার ৭৭৮ জন টিকা নিয়েছেন। তিনি আরও জানান ৭ আগস্ট উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে যেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা দেবেন। টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি করে টিম একদিনে ৬শ টিকা দেবে। সে হিসেবে ৭ আগস্ট একদিনে উপজেলার ৬ হাজার ৬শ জন মানুষকে টিকা দেয়া হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও টিকা প্রদান অব্যহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here