দফায় দফায় লকডাউনে বিপাকে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ

0
51

এস.এম মুসতাইন

মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষ সংসারটাকে একটু গুছিয়ে নিয়ে পরিবার পরিজনদের সাথে শান্তিতে জীবন যাপন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আবার হুমড়ি খেয়ে পিছিয়ে পড়ছে। পেটের দায়ে ধারদেনার আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অন্য দিকে ছোট খাট ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি হারিয়ে ফেলছে।

একদিকে সারা দেশে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি, হাফিয়ে উঠছে চিকিৎসকরা, মানুষকে বাচানোর জন্য সরকার দফায় দফায় লকডাউন দিচ্ছেন। সরকারি বেসরকারি চাকুরী জীবিদের কোন সমস্যা হচ্ছে না, মাস গেলে বেতন তুলছেন। মরন হয়ে দাড়িয়েছে মধ্যেবিত্ত আয়ের মানুষের। ছোট খাট ব্যবসা বানিজ্য লোকেরা অল্প পুঁজি নিয়ে কোন মতে দিন চালায়, তারা পড়েছে বিপাকে।

লকডাউনে তেমন বেচাকেনা নেই ব্যবসার পুঁজি ভেঙে সংসার চালাতে দিধাবোধ করছে না, এদিকে পুঁজির ভান্ডার খালি হতে চলছে। না পারছে সইতে, না পারছে কাউকে বলতে। নিম্ন আয়ের মানুষ ভ্যান রিকশা চালক, রাস্তার পাশে ফুতফাতে বসে ঝাল মুড়ি বিক্রি করা, দৈনন্দিন আয়ের সেলুন, চা সিগারেট বিক্রেতারা পড়ছে মহা বিপাকে।

আধা বেলা তাদের প্রতিষ্ঠান খুলতে পারলেও সেই আগের মত মানুষের সমাগম না থাকায় আয় রোজগার সীমিত। সংসার চালাতে খেয়ে না খেয়ে নুন আনতে পান্তা ফোরাচ্ছে। ছোট পরিসরের অল্প পুঁজি দোকান মালিকগন বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে দিন আনে দিন খায় এমনই তাদের ব্যবসা। করোনা কালীন লকডাউনের মধ্যে আসল টাকা ভেঙে খেতে খেতে পুঁজি হারিয়ে ফেলছে তারপর ও রয়েছে কিস্তির জ্বালা। অন্য এক দিকে রক্ষা পেতে হচ্ছে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায়।

ছেলে মেয়েদের নিত্যদিনের খরচের হাত থেকে। পুঁজিবাদী বড় বড় ব্যবসা বানিজ্যের কারবারিদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না তারপরও দাপিয়ে মরছেন তারা। যাত্রীবাহী যানবাহন বাস বন্ধ, অথচ মানুষের অবাধ চলাচল থেমে নেই, যেকোন উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে।

সড়ক গুলোতে লক্ষ করলে আয়নার মত ভেসে ওঠে জনগণের যাতায়াতের দৃশ্য। সিএনজি, টিগার, মটরবাইক এমনকি ব্যাটারী চালিত ভ্যান রিকশায় লোকেলোকায়ে গাদাগাদি, স্বাস্থ্য বিধির বালায় কোথায় এ প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে।

সরকার ঘোষিত আইন কি মেনে চলছে ছোট গাড়ির মালিকগন, যাত্রী অর্ধেক নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্বিগুন ভাড়া নিয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা শুধু গণমাধ্যমে প্রচার, কানে শুনেই রেখেছে। বাস্তবতায় এই তার নমুনা, পাড়ায় পাড়ায় গাড়িতে উঠাচ্ছে, ভাড়াও নিচ্ছে দ্বিগুন। ঠকছে তো সাধারন মানুষ। চলমান লকডাউনে বাড়তি ভাড়ায় লাভবান সিএনজি অটোরিকশা, টিগার, ভ্যান চালকগন। আর না খেয়ে মরছে টিকিট কাউন্টার মাষ্টার কর্মচারীরা। গ্রামের নিম্ন আয়ের দিন মজুরি কাজকর্ম করে খাওয়া মানুষ গুলোর কাজের অভাব দেখা দিয়েছে।

মাঠে বিলে তেমন কাজ নেই, অধিকাংশ দিন মজুর বিভিন্ন ঘাটে সার, কয়লা, পাথর সহ অনেক কাজ করে দিন যাপন করতো তাও বর্তমানে বন্ধ থাকায় চরম দুর্বিষহ জীবন কাটছে পরিবার পরিজনদের নিয়ে। যতোই ভয়াবহ হোক করোনা, চলমান লকডাউনে তার থেকে ভয়াবহ রুপ ধারন করতে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের মানুষরা। ছোট ছোট ব্যবসায়ী, সীমিত আয়ের মানুষ করোনার মৃত্যুর থেকে সংসারের অবিভাবকরা মনের কষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মরবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here