সাহিত্য শুধু আনন্দের খোরাক নয় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায় – ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধায়

0
30

বিশেষ প্রতিনিধি

সাহিত্য শুধু আনন্দের খোরাক নয়, দেশ ও মাতৃকার জয়গানের কথা বলে। মানুষকে বেঁচে থাকতে পথ দেখায়। বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। মানুষকে সঠিক পথে চলতে পথ দেখায়। বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) ভার্চুয়ালে দুই দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের শনিবার (৩১ জুলাই রাত ৯টায়) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে একুশে পদক প্রাপ্ত আবৃত্তি শিল্পী, লেখক, প্রশিক্ষক ড.ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, করোনাকালীন সময়ে কবি, সাহিত্যিক, গবেষকসহ সকল মানুষ যখন ঘরবন্দি অবস্থায় হাফিয়ে উঠেছেন। তখন বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, যশোর দুই দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব আয়োজন করে সেই অবস্থা থেকে পরিবর্তনের পথ সৃষ্টি করেছে। আর এটা যশোর থেকে শুরু হলো। আমি বিশ্বাস করি এ সাহিত্য উৎসব এবং তার চেতনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধায় আরো বলেন, সাহিত্য দেশের মুক্তির কথা, দেশের স্বাধীনতার কথা, মানুষের কথা বলে। স্বাধীনতা, স্বাধিকার আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। কারাগারে থেকে সাহিত্য রচনা করে দেশের মুক্তির কথা, জনগণের আশা আকাঙ্খার কথা, জনতার কথা বলা যায় এবং দেশের স্বাধীনতার সময় তা বলা হয়েছে। এজন্য দ্রুত আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সারা বিশ্বের বাংলাভাষাভাষি কবিদের এক সাথে আনার কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি)।

স্বাগত বক্তব্যে বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনাকালীন সময়ে ঘর বন্ধি অবস্থা থেকে মনোজগতকে সুস্থ রাখার জন্য আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। আগামিতেএ ধরণের আয়োজন অব্যাহত রাখার তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে স্বাধীন আলো ডট কমের প্রকাশক ও সম্পাদক এবং যশোর সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, করোনাকালীন সময়ে মানুষ যখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তখন যশোর থেকে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ ভার্চুয়ালে দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব আয়োজন করে কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্নার পরিচালনায় বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কাজী রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মিডিয়া পার্টনার বহুমাত্রিক ডট কমের প্রধান সম্পাদক নেতাজী গবেষক আশরাফুল ইসলাম।

এর আগে শনিবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৫ টায় উৎসবের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলাম। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্যা আমির হোসেন. কবি আহমদ রাজু, । এরপর শুরু হয় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা।

স্বদেশে এবং প্রবাসে কবি ও কবিতা বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি ও প্রাবন্ধিক শাহীন রেজা (বাংলাদেশ) কবি ও প্রাবন্ধিক সৌমিত বসু (ভারত), লেখক ও গবেষক অধ্যাপক শিবলী আব্দুল্লাহ (অস্ট্রেলিয়া) কবি ও প্রাবন্ধিক মৌ মধুবন্তী (কানাডা)

বাংলা কবিতার ভবিষ্যত বিষয়ে আলোচনা করেন গবেষক প্রফেসর আমিরুল আলম খান (বাংলাদেশ), কবি ও প্রাবন্ধিক সিদ্ধার্থ সিংহ (ভারত), কবি ও প্রাবন্ধিক তৌফিক জহুর (বাংলাদেশ), কবি ও প্রাবন্ধিক ড. সবুজ শামীম আহসান (বাংলাদেশ), কবি ও প্রাবন্ধিক শিমুল আজাদ (বাংলাদেশ)।

শেষ দিনের সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন, সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান আরা নীতি, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসনাত সজল, নির্বাহী সদস্য সোনিয়া সুলতানা চাঁপা, সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৫ টায় শুরু হয় দুই দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন দেশ বরণ্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কাজী রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না।

এরপর শুরু হয় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। কবিতার রূপ, স্বরূপ ও কবিতার বিচরণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কবি ও গবেষক প্রফেসর আব্দুল মান্নান (বাংলাদেশ), লেখক ও গবেষক ড. মীরাতুন নাহার (ভারত) কবি ও প্রাবন্ধিক ফকির ইলিয়াস (আমেরিকা). কবি ও গবেষক বেনজিন খান (বাংলাদেশ)।

বাংলা কবিতায় একুশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কবি ও গবেষক প্রফেসর অনীক মাহমুদ (বাংলাদেশ), কবি ও প্রাবন্ধিক মাহমুদ কামাল (বাংলাদেশ), কথা সাহিত্যিক রোকেয়া ইসলাম (বাংলাদেশ), কবি ও গবেষক ড. শাহনাজ পারভীন (বাংলাদেশ)।

কবিতার আঙ্গিক উদ্ভাবন (স্বদেশ ও বিদেশ) বিষয়ে বক্তব্য রাখেন কবি ও প্রাবন্ধিক আনোয়ার কামাল (বাংলাদেশ) উৎসবের প্রথম দিনে বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকাসহ ৭ টি দেশের কবিরা কবিতা পাঠ করেন।বিকাল ৫ টা থেকে কবিতা উৎসব শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠান সমগ্র উপস্থাপন করেন নূরজাহান আরা নীতি, রবিউল হাসনাত সজল, সোনিয়া সুলতানা চাঁপা এবং মোস্তাফিজুর রহমান। দুইদিন ব্যাপী উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডাসহ ৭ টি দেশের ১৯ জন আলোচক ও ১১৩ জন কবি অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের মিডিয়া পার্টনার ছিলো সুপ্রভাত সিডনি (অস্ট্রেলিয়া), বাংলা ভিশন ডিজিটাল (বাংলাদেশ), স্বাধীন আলো ডট কম (বাংলাদেশ) ও বহুমাত্রিক ডট কম (বাংলাদেশ)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here