প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সংসার ভাঙ্গছে এক গৃহবধূর

0
34

কপিলমুনি প্রতিনিধি

প্রতারনা করে নগদ টাকা ও সোনার গহনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হরিঢালীর নোয়াকাটি গ্রামের এক মহিলার বিরুদ্ধে। প্রতারক ওই মহিলার খপ্পরে পড়ে সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে গৃহবধূ কুলসুম বেগমের। টাকা ও স্বর্নের দুল ফিরে পেতে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন কুলসুম বেগম।

জানাযায়, কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী হরিঢালী ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামের ইকতার গাজীর স্ত্রী সজিদা বেগম (৩৫) প্রতিবেশি দিন মজুর আব্দুল্লাহ গোলদারের স্ত্রী কুলসুম বেগমের সম্পর্কে ফুফু হয়। সেই সূত্র ধরে অভাব ও চিকিৎসার কথা বলে প্রতারক সজিদা বেগম সরল সোজা ওই গৃহবধূর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চায়। সজিদার অনেক অনুনয় বিনয় ও কাকুতি মিনতি দেখে ফুফুর প্রতি দয়া হয় কুলসুম বেগমের। তাই স্বামীকে গোপন করে স্বামীর রক্ষিত ৫ হাজার টাকা সজিদা বেগমকে সে ধার দেয়।

কিছুদিন পর স্বামী টাকা চাইলে গৃহবধূ কুলসুম বেগম সজিদা বেগমের কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে সজিদা বেগম একাধিকবার ওয়াদা করে টাকা ফেরৎ না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে।

এদিকে ধূর্ত সজিদা বেগম গহনা ও টাকা ফিরিয়ে দিব বলে ওয়াদা করে। সংসারে কলহ ও তার প্রতি স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গের কথা মনে করে সজিদার কথায় রাজি হয় কুলসুম বেগম। একপর্যায়ে তার কাছে রাখা তার ননদের ১২ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্নের কানের দুল গোপনে সজিদা বেগমের হাতে তুলে দেয় সে। যার মূল্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। কানের দুল নেওয়ার পরপরই প্রতারক সজিদা বেগম লাপাত্তা হয়। কিছু দিন পর ফিরে আসলে টাকা এবং কানের দুল চাইলে ওই গৃহবধূকে হয়রানীসহ বিভিন্ন হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে।
এদিকে স্বামী ঘটনাটি জানতে পেরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সহ সংসারে কলহ দেখা দিয়েছে। তাদের সুখের সংসারটি ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে বলে গৃহবধূ কুলসুম বেগম জানিয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সজিদা বেগম একজন চিহ্নীত প্রতারক। তার কাছ থেকে এলাকার বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছে। নোয়াকাটি গ্রামের আনার খাঁর নিকট থেকে প্রতারনা করে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সে।

এছাড়া একই গ্রামের ওহিদুল গোলদারের স্ত্রীর নিকট থেকে স্বর্নের কানের দুল, চেইন ও আংটি নেয়। ইকবাল গোলদারের স্ত্রীর নিকট থেকে স্বর্নের কানের দুল, রবিউল গোলদারের মেয়ে ময়নার নিকট থেকে স্বর্নের কানেরদুল সহ হরিঢালী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দিলীপ সরকারের নিকট থেকেও প্রতারনা করে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

নোয়াকাটি গ্রামের অনেকে জানিয়েছেন, প্রতারক সজিদা বেগমের প্রতারনা মূলক কাজে সহায়তা করে এলাকায় কথিত দুজন পুলিশের দালাল নোয়াকাটি গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আনারুল গাজী ও একই গ্রামের শহিদুল গাজীর ছেলে কাদের গাজী সহ মালত গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সজিদার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here