অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া আক্তার তমা হত্যার বিচারের দাবি

0
33

কামরুল ইসলাম, অভয়নগর

অন্তঃসত্ত্বা সোমাইয়া আক্তার তমা হত্যার বিচার দাবি করেছে তার পিতা মাতা। তাদের দাবি তাদের মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তমার পিতা আব্দুল জলিল শেখ গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় অভয়নগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

তমার পিতার দাবি, উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান শেখের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম সুজন শেখের সাথে ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরে গত ৩০ জুন ২০২০ তারিখে বিবাহ হয়। এর আগে তাদেও মধ্যে প্রেমহ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তখন সুজন কৌশলে মেয়ে পক্ষের কাছ থেকে একটি পালসার মটরসাইকেলসহ নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিয়ের পরের মাসে তমার পিতার বাড়ি তালাকের নোটিশ পাঠয়। এ সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে পুনঃরায় তাদেও মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

এর পর থেকে সুজনের মা কুমকুম বেগম, ননদ রুনা খাতুন তাদের মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানুষিক নিযাতন চালায়। এর পর সুজনের চাচাতো ভাই রুবেল শেখ দায়িত্ব নিয়ে গ্রাম্য সালীশের মাধ্যমে তমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু তার মা কুমকুম বেগম ও রৃবেল শেখ পরিকল্পনাকওে তমাকে বাড়িতে থাকতে দেয়নি।

এরপর পিতার বাড়ির থেকে দেড় লক্ষ টাকার আসববপত্র নিয়ে উপজেলার ওয়াপদা মোড়ে তারা বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। কিন্তু কিছ’দিন পর সুজনের মা কুমকুম বেগম ও তার চাচাত ভাই রুবেলের মদদে সুজন আবার তমার উপর নির্যাতন শুরু করে।

গত ঈদের আগে কুমকুম বেগম ও ননদ রুনা খাতুন ভাড়াবাড়িতে গিয়ে তমার কাছে ঈদ খরচ বাবদ বাপের বাড়ি থেকে দশ হাজার টাকা আনতে বলে। টাকা না দেওয়ায় গত ১৮ জুলাই রাক বারটার দিকে তাদেও মেয়ে অন্তঃস¦ত্তা তমাকে হত্যা কওে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ফেলে সুজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পত্রিকায় নিউজ হয়। ওই দিন রাত দেড়টার দিকে তমার পিতা আব্দুল জলিল শেখ থানায় গিয়ে হত্যা মামলা করতে গেলে থানার এসআই উত্তম কুমার সুষ্ঠবিচারের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে মেয়ের লাশ ময়ণাতদন্তে পাঠায়।

পরের দিন তিনি থানায় গিয়ে সুজনসহ তার মাতা কুমকুম বেগম, চাচাত ভাই রুবেল শেখ ও ননদ রুনা খাতুনকে আসামি করার দাবি জানান। কিন্তু থানার এসআই উত্তম কুমার তার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র আত্মহত্যার প্ররোচনায় সুজনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করে। বাকি তিনজন যেহেতু এই হত্যার সাথে জড়িত, তাদেরকে মামলার আসামি করে সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান তিনি।

এামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানা পুলিশের এস আই উত্তম কুমার জানান, এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদি হয়ে ঘটনার পর পরই আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামালার একমাত্র আসামী রিয়াজুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য জোর চেষ্টা করছি।

থানার অফিসার ইনচার্য কে এম শামীম হাসান বলেন, ‘ময়না তদন্তের রিপোর্টে হত্যা প্রমাণিত হলে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজন নেই’।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তমার মা নাসিমা বেগম, তার বড় ভাই সোহাগ হোসেন শেখ, তমার স্বামী রিয়াজুল ইসলামের পিতা মিজানুর রহমান, স্থানীয় ইউপি মেম্বার(সংরক্ষিত) রেনু বেগম, পাশের ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বও মাহফুজ বেগম, সাবেক মেম্বর রাফেজা বেগম, স্থানীয় ওয়ার্ড আলীগ নেতা মারুফ হোসেন তুহিন, যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস, ছাত্রলীগ নেতা বরুণ মোল্যা, ওয়ার্ড আ.লীগ নেতা হাবিবুর রহমান ফকির প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here