ঝিকরগাছার নবনির্মিত ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে

0
46
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত ব্রিজ

সত্যপাঠ ডেস্ক

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ে হিসেবে প্রস্তাবিত। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল যেতে হলে ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ৬০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে হয়। যে কারণে ব্রিজটি ভেঙে নদের ওপর নতুন দুটি ব্রিজ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে এ ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আরেকটির কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত নতুন ব্রিজ দুটি ভুল নকশায় করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের গার্ডারের নিচের অংশ পানি ছুঁতে চলেছে। ফলে ভরা মৌসুমে এই ব্রিজের নিচ দিয়ে কোন নৌকা চলাচল করতে পারবে না। ব্রিজটি এখন নদের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। এটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। এ সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ৬০ বছর আগে নির্মিত সরু ব্রিজটি ছিল এ পথের বিড়ম্বনা। যে কারণে দেড় বছর আগে এ ব্রিজটির পাশে শুরু হয় ছয় লেনের রাস্তার জন্য দুটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। তার মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজের মধ্যে একটির কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই এর পাশে শুরু হবে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। প্রতিটি ব্রিজ ১২০ মিটার লম্বা ও ১৫ মিটার চওড়া। দুটি করে পিলার ও এবাটমেন্ট ওয়াল এবং ২১ গার্ডার বা ভিম দেয়া হয়েছে। পুরনো ব্রিজটির চেয়ে মাত্র দেড় মিটার উঁচু করা হয়েছে। ব্রিজটি পিসট্রেজ বা সমান করা আছে। ব্রিজের কাজ করছে মনিকো এবং ডেনকো নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ব্রিজটি দেখে এলাকাবাসী হতাশ হয়েছে। পুরনো ব্রিজের নিচ অংশ বা তলদেশ কখনো নদের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ বৃষ্টিতে নদে পানি সামান্য বাড়ায় নির্মাণাধীন অর্থাৎ নতুন ব্রিজের নিচের অংশ পানি ছুঁতে চলেছে। ফলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা ভরা মৌসুমে নতুন এ ব্রিজের নিচ দিয়ে কপোতাক্ষ নদে কোনো নৌকা তো দূরের কথা একটি ডোঙ্গাও চলাচল করতে পারবে না।

ঝিকরগাছা উপজেলার মুদ্রণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, নতুন ব্রিজ অনেক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্রিজের কারণে কপোতাক্ষ নদ আরো মরে যাবে। ঝিকরগাছা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান রশীদ জানান, নতুন ব্রিজ আমাদের আশাহত করেছে। এ ব্রিজের কারণে নদ তার নব্যতা আরো হারাবে। ব্রিজের নকশা ঠিক হয়নি। ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ইলিয়াস উদ্দীন জানান, আমরা শুনেছিলাম যে ব্রিজের কথা, তা তো নির্মাণ হলো না। পুরনোটির নিচ দিয়ে নৌকা, জাহাজ চলাচল করতে পারলেও নতুন ব্রিজটির নিচ দিয়ে একটি ডিঙ্গিও যেতে পারবে না। নদকে মেরে ফেলতে নতুন ব্রিজই যথেষ্ট বলে তিনি দাবি করেন।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, নদীর ওপর ব্রিজ করতে হলে অবশ্যই বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু ভুল নকশায় সওজ ব্রিজ দুটি নির্মাণ করছে। ব্রিজের নিচে দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। সরকারের যে নদী খননকাজ করছে ব্রিজটি তার গলার কাঁটা হিসেবে দাঁড়াবে।

উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু জানান, বন্যা বা প্রবল বর্ষায় ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনো কিছু চলাচল করতে পারবে না। ব্রিজের গার্ডার উচ্চতা কম করায় এমন হয়েছে। এক্ষেত্রে নদী পুনঃখনন করতে হবে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আমরা খতিয়ে দেখছি ভুল নকশায় ব্রিজটি করা হয়েছে কিনা। কেননা শিগগিরই কপোতাক্ষ খননকাজ শুরু করা হবে। ৮০০ কোটি টাকার এই কাজের এরই মধ্যে ৩৪ কিলোমিটারের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ভুলভাবে ব্রিজটি করা হলে সবার জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রিজ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান জানান, বিশেজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিজ দুটির নকশা করা হয়েছে। পুরনো ব্রিজের মাপে এটি করা হচ্ছে। নদীর পানি যদি গার্ডারে লেগে যায় তাহলে নদী খনন করতে হবে। তা না হলে নিচ দিয়ে নৌযান চলতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here