যশোরে সুফল এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ ও কৃষান ফার্টিলাইজার সার কারখানায় তৈরী হচ্ছে ভেজাল হেপ্টা জিপসম এবং নিন্মমানের সার

0
16

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

যশোর সদরের সাহাপুর আড়পাড়া এলাকায় সুফল এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ ও কৃষান ফার্টিলাইজার সার কারখানা কৃষকের জন্য ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখানে সংক্রমন করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা তৈরী হচ্ছে ভেজাল হেপটা, জিপসমসহ নিন্মমানের সার।

যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নামে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ খরচ দেখিয়ে কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তার নাকের ডগায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ ও কৃষান ফার্টি লাইজার সার কারখানার মালিক জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের যথাযথ কাগজপত্র বিহীন গড়ে ওঠা এসব সার কারখানার জন্য ওই এলাকার মানুষেরা দারুণ হুমকীর মুখে পড়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলেছেন, সুফলা এগ্রো কেমিক্যালের মালিক শহিদুল ইসলাম খুলনা থেকে উৎপাদিত মালের পরীক্ষার নামে নিজেই ভূয়া রিপোর্ট অনুকূলে বানিয়ে ২১% মালের স্থলে তৈরী করেছেন ৩৬% হেপ্টা। তিনি আমেরিকান হেপ্টা ও আমেরিকান মনো হাইটেড তৈরী করে সুফলার নাম ভাঙ্গাচ্ছেন। কয়েকযুগ যাবত সম্পূর্ন জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর মালিক শহিদুল ইসলাম আজ কোটিপতি বনে গেছেন সার কার খানার বদৌলতে।

যশোর শহর থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর দিকে আড়পাড়া ও সাহাপুর এলাকার কৃষকেরা দাবি করেছেন, সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ শহিদুলের বড় ভাই মহাসিন, গনি.হযরত এর পর শহিদুল ইসলাম পুরো গড়ে ওঠা অবৈধ সার কারখানার হাল ধরেছে। শহিদুল ইসলাম যশোরের কৃষি কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার কারখানায় তৈরী করছেন হেপ্টা। অথচ তিনি মনোপ্যাক, ম্যাগনেসিয়াম সালফার কিনছেন কিসের জন্য? শুধু মাত্র হেপ্টা তৈরী করতে উক্ত মালের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছেন সার ব্যবসায়ীরা।

সূত্রগুলো দাবি করেছেন, সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠানে ডলোমাইড, সিপসম তৈরী করা হয়। যা কৃষি কর্মকর্তাদের চোখের আড়ালে। সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ এর মালিক শহিদুল ইসলাম ভেজাল সার কারখানার মাধ্যমে যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড বেলতলা এলাকায় গড়ে তুলেছেন কোটি টাকা মূল্যের জমি, ধানপট্টি এলাকায় গড়ে তুলেছেন গোডাউন। তার কারখানায় উৎপাদিত সারে পার্সেন্ট থাকলে তিনি কেন দেশের বিভিন্ন নামী কোম্পানীর প্যাকেট মোড়ক ছাপিয়ে নিজের বানানো হেপ্টাসহ বিভিন্ন মালামাল বাজারজাত করছেন।

বিভিন্ন অনিয়মসহ নানা অভিযোগে তার সার কারখানায় বছর ৬ পূর্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক অভিযান চালিয়ে সুফলা এগ্রো কেমিক্যাল সার কারখানা সিলগালা করে দিয়ে তার কর্মচারীর হাতে হাত কড়া পড়েছিল। তার সার কারখানার ব্যাপারে শহিদুলের কাছে তার মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্যনয়।

সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, সাহাপুর গ্রামের গড়ে ওঠা কৃষান ফার্টিলাইজার সার কারখানা। কৃষান ফার্টিলাইজার সার কারখানায় বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব কৃষান ফার্টিলাইজার সার কারখানা খুলে বছর কয়েক পূর্বে সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকায় রাতারাতি ৪র্থ তলার একটি বাড়ির মালিক বনেগেছেন।

বর্তমানে কৃষান ফার্টি লাইজার সার কারখানায় তৈরী হচ্ছে, ভেজাল টিএসপি, পটাশ, ফাইফ জি দানা। বালি মাটি, ইটের সুরকিসহ বিভিন্ন নিন্ম মানের মালামাল দিয়ে তিনি নেছার নামের এক ফোরম্যান রেখে বর্তমানে আজিজুলের মাধ্যমে তৈরী করছেন ভেজাল সার। আজিজুল ইসলামকে মাহাবুব বর্তমানে তার সার কারখানা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করছেন। আজিজুল মাহাবুবের সার কারখানায় ভেজাল সার উৎপাদন করছেন। মাহাবুব প্রচার চালাচ্ছেন বর্তমানে তিনি উক্ত সার কারখানার মালিক নন।

আজিজুল ইসলাম এই সার কারখানার মালিক। তিনি আজিজুলের কাছে কৃষান ফার্টি লাইজার সার খানা ভাড়া দিয়েছেন। মাহাবুব নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে ষ্টিকার লাগিয়ে অবাধে চলাফেরা করছে।

সূত্রগুলো বলেছে, মাহাবুব তার জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ সার কারখানায় ভেজাল সার উৎপাদ করে বর্তমানে কোটিপতির কাতারে উঠেছে।

মাহাবুবের কাছে তার ভেজাল সার কারখানার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এখন ভেজাল সার কারখানায় সার উৎপাদন করেন না। আজিজুল এই ব্যবসা করেন। এব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

আজিজুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সার কারখানার মালিক মাহাবুব তিনি তার কথা মতো উৎপাদন করেন ভেজাল সারসহ বিভিন্ন মালামাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here