চৌগাছার রাতুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, মূল হত্যাকারী দুলাভাই গ্রেফতার

0
30

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মাশান মাঠে পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো যুবক এহতেশাম মাহমুদ রাতুল (১৮) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম। এ সময় রাতুলের আপন দুলাভাই মুল হত্যাকারী শিশির আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে। সে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে ও নিহত রাতুলের আপন ভগ্নিপতি। শনিবার ১৭ জুলাই যশোর ডিবি অফিসে এক প্রেস ব্রিফিং এই সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকতারা।

ঘটনার বিবরনে জানাগেছে, গত ১২ জুলাই বিকেল সোয়া ৫ টার সময় লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কসটেপ দ্বারা মোড়ানো ১৮ বছর বয়সের এক অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ পেয়ে উদ্ধার করে চৌগাছা থানা পুলিশ।

পরবর্তীতে মৃতের আত্মীয়স্বজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ও ছবি দেখে মৃতদেহ সনাক্ত করে। নিহত এহতেশাম মাহমুদ রাতুল ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে সে মহেশপুর থানাধীন সামবাজার এম পি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র।

গত ১১ জুলাই বেলা আড়াইটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭ টায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও এরপর রাতুল বাড়ি ফেরেনি ও নিখোঁজ থাকে। ঘটনার বিষয় রাতুলের পিতা মহিউদ্দীন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৮ তারিখ ১৩/০৭/২১ইং ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।

মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও কুলেস হওয়ায় পুলিশ সুপার মামলাডিট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এর উপর ন্যাস্ত করেন। ডিবি’র এসআই শামীম হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহন করেন।

এরপর বিভিন্ন সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেনসহ ডিবি’র একটি চৌকসদল শুক্রবার ১৬ জুলাই বেলা দেড়টার সময় চট্টগ্রামের সিএমপি বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ও মূল হত্যাকারী নিহত রাতুলের ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদকে গ্রেফতার করে। শিশির গ্রেফতারের পর সে ডিবি পুলিশের কাছে স্বীকার করে রাতুলের পরিহিত বস্ত্র ও হত্যাকাজে ব্যবহৃত স্কসটেপ ও হ্যান্ড গ্লাভস রাত সাড়ে ৯ টায় চৌগাছা থানার লস্করপুর শ্মশান মাঠের মামলার ঘটনাস্থলের অদূরে একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করে। নিহতর রাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন শিশির আহম্মেদ এর বাড়ি হতে উদ্ধার করে।

শিশির আহম্মেদ গ্রেফতার হওয়ার পর ডিবি’র কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলে, তার শ^শুর একদিন তার বাড়িতে জামাই শিশির আহম্মেদকে ডেকে অপমান অপদস্থ করলে রাগে ও ক্ষোভে সেই থেকে তার একমাত্র ছেলে রাতুলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকে।

শিশির আরো জানান, পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রাতুলকে শিশির আহম্মেদ তার স্ত্রী অর্থাৎ বোনোর মোবাইল ফোন দ্বারা ডেকে নিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা সেবন ও কোমল পানীয় মজো এর মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে রাতুলকে খাওয়ায়ে দুলাভাই শিশির আহম্মেদ রাতুলের নাক মুখে স্কস টেপ দ্বারা মোড়ায়ে রাতুলকে শ^াসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ গুম করার জন্য ফেলে রাখে ও রাতুলের গায়ের কাপড় খুলে পাশে আরেকটি পাটক্ষেতে ফেলে রাখে এবং রাতুলের মোবাইলের সীম কার্ড খুলে শিশির তার বাড়ির একটি কক্ষে ইটের নীচে পুতে রাখে।

শিশির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here