‘আরএসএফের প্রতিবেদনের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে দেশের সংবাদমাধ্যম’

0
6

সত্যপাঠ ডেস্ক

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম থাকাকে ‘কলঙ্কজনক’ হিসেবে মনে করছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ।

বিএফইউজে একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এবং ডিইউজে একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এক যুক্ত বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন। তারা বলেন, যেসব তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আরএসএফ তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অবস্থা তার চেয়েও খারাপ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সংবাদে জানানো হয়, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ৫ জুলাই ‘প্রেস ফ্রিডম প্রিডেটর্স’ বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারীদের ৩৭ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দু’জন নারী রয়েছেন। তাদের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তালিকাটিতে দু’টি ভাগ করা হয়েছে। লাল ও কালো। সবচেয়ে মারাত্মক বা খুবই খারাপ সংবাদমাধ্যম হরণকারী ১৬ জনের ‘কালো’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।’

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন আরএসএফের মুক্তগণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত মুক্তগণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ১৫২-তে। ২০১০ সাল থেকে একের পর এক ভিন্নমতের সংবাদপত্র, বেসরকারি টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দিয়ে এবং সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গোটা গণমাধ্যমজুড়ে যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তারই আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে আরএসএফ প্রকাশিত ইনডেক্সে।’

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজের (একাংশ) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও সিনিয়র সাংবাদিক সাদাত হোসেন গত ৮ মাস ধরে জেলে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রতিমাসে গড়ে ৬ জন করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও অনেককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিচায়ক নয়।’ বিবৃতিতে অবিলম্বে স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বন্ধ গণমাধ্যমগুলো চালু, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here