সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের পাশে খাবার নিয়ে ‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’র বন্ধুরা

0
167

এস এইচ রুবেল

প্রতিদিনই যশোর সদর হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালের গেটে কিছু সময় দাঁড়ালেই দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্সের আসা-যাওয়া। নানান সমস্যা নিয়ে দুর-দুরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসেন সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিছু মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরে যান আর যারা গুরুতর অসুস্থ তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করে নেয়। ভর্তিরত সকল রোগীর সাথেই থাকে তাদের স্বজনরা বা আত্মীয়রা।

দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। জরুরি সেবা ছাড়া আর কিছুই খোলা থাকছে না। যশোরে আরও কঠোর অবস্থা। এক বেলা হোটেল খোলা থাকলেও রাতে খাবারের হোটেলগুলো থাকে বন্ধ। এতে করে বিপাকে পড়তে হয় দুর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীর স্বজনের। খাবারের হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় রাতে প্রায়ই একরকম না খেয়ে থাকতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার দিলেও অনাহারে থাকতে হয় রোগীর স্বজনদের। এই সকল সমস্যার কথা চিন্তা করে এগিয়ে এসেছে ‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’ এর বন্ধুরা। তারা রোগীর স্বজনদের রাতে একবেলা খাবার দেয়া উদ্যোগ গ্রহণ করে।

‘আমরা তো আমরাই’ এই শ্লোগান নিয়ে ‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’র ১১ জন বন্ধুরা মিলে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১ জুলাই থেকে যশোর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মাঝে রাতে একবেলা খাবার দেয়ার কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম দিনে ৫০ জন রোগীর স্বজনদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। পরবর্তীদের প্রতিদিন ১শ’ ৫০ জন রোগীর স্বজনদের মাঝে রাতে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এবং এই কার্যক্রম চলতি মাস (জুলাই) জুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’ এর উদ্যোক্তারা। বন্ধুদের একত্রিত অর্থেই চলছে তাদের সহায়তা কার্যক্রম। সকল ব্যবস্থাপনার কাজও তারা বন্ধুরা মিলেই করছেন। রাতের খাবার দিচ্ছেন তারা।

সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে প্রতিদিন রাত ৮টায় রোগী স্বজনদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই খাবার তারা নিজ হাতে করে দেয় না। প্যাকেট করা খাবার নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেয়। রোগীর স্বজনরা সেখান থেকে খাবার নিয়ে যায়। প্রতিদিন খাবারের মাঝে কিছু কিছু ভিন্নতা রাখা হচ্ছে। কোনদিন খিচুড়ি, কোনদিন সাদা ভাত। সেই সাথে থাকছে ডিম, মুরগীর মাংস, মাছ ইত্যাদি।

‘আমরা তো আমরাই’ এই শ্লোগান নিয়ে শুরু করা ‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’ নামে সংগঠনটি প্রথমে ১১ জন বন্ধু মিলে কার্যক্রম শুরু করে। বন্ধুদের মধ্যে আছে- প্রতীক, বজলু, রাশেদ, লাল্টুু, বাবু, হাবিব, নয়ন, জুয়েল, তরিকুল, বিপলু, জিয়া, শুভ্রর, স্বপন।

পরবর্তীতে ‘এস.এস.সি ৯১ ব্যাচের ২ শতাধিকের বেশি বন্ধু সংগঠনটির কার্যক্রমের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সার্বিক সহযোগিতায় অংশগ্রহন করেছে। এছাড়া কিছু বন্ধু যারা দেশের বাইরে থাকে তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।

‘এস.এস.সি ৯১ যশোর’ ব্যাচের বন্ধু এহতেশাম-উল আলম প্রতীক বলেন, আমরা করোনাকালে মানুষের সহায়তা করতে উৎসাহী ছিলাম। তখন দেখলাম হাসপাতালে অনেকে না খেয়ে দিন পার করছেন। আমরা নয়জন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিই তাদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করার। কার্যক্রম শুরু করার পর এখন আমাদের বন্ধুর সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিকের উপরে। আমরা মাসজুড়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। তিনি আরও জানান, অসহায় রোগীর স্বজনদের পাশে থাকতে পেরেছি- এই প্রাপ্তি আমাদের আনন্দের এই প্রাপ্তি আমাদের গর্বের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here