কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল যেন মৃত্যুপুরী

0
13

কুষ্টিয়া : গেল ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদের মধ্যে ১৩ জনের করোনা পজেটিভ নিশ্চিত হয়েছিল। চারজনের শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন।
এদিকে, পিসিআর ল্যাব ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন ৮৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৪৪।
টানা একমাস কঠোর লকডাউনের পরেও ভারত-সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় কোনো মতেই কমছে না করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা। হাসপাতাল থেকে মানুষকে একের পর এক নিয়ে যেতে হচ্ছে প্রিয়জনের মরদেহ। কুষ্টিয়া জেলার একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল এখন যেন মৃত্যুপুরী। প্রতিদিনই চলছে মৃত্যুর মিছিল। গত সাতদিনে শুধু এই হাসপাতালেই করোনায় আক্রান্ত ৮৫ ও উপসর্গ নিয়ে ৩৫- মোট ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবার অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন নিজবাড়িতে।
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ সামাল দিতে গত ২৫ জুন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসাপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেন কর্তৃপক্ষ। শুধু কুষ্টিয়া নয়, পাশের জেলাগুলো থেকেও করোনায় আক্রান্ত রোগীরা উন্নত চিকিৎসা নিতে আসছেন এই হাসপাতালে। এর ফলে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা রোগীর সাথে হাসপাতালে থাকা স্বজনরা। এভাবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বেড না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় শুয়েও চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতো কষ্টের মাঝেও হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় মোটামুটি খুশি রোগীর স্বজনরা। আর এতো এতো রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শেষ ১১ দিনে মারা গেছেন ১২০ জন। গত সাতদিনে করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৩১ জন। জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা এখন দশ হাজার ৩০৬।
কুষ্টিয়ায় কেন এতো মৃত্যু ও আক্রান্ত? এ বিষয়ে জেলা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম মুসা কবির বলছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ে অবহেলা, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও করোনা উপসর্গ নিয়ে দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসার কারণেই ঘটছে এতো মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা।
তিনি আশঙ্কা করেন, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তবে সচেতন হলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে। ওই পথ দিয়ে কিছু মানুষ অবৈধভাবে এপার-ওপার যাতায়াত করে থাকে। জেলায় করোনা বাড়বাড়ন্তের এটা একটা বড় কারণ বলে মনে করেন ডা. মুসা কবির।
জেলা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেন জানান, গত ১৫ দিন ধরে হাসপাতালের ২০০ বেডের বিপরীতে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৩০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। করোনা রোগীদের চিকিৎসার্থে হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় আরো আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হচ্ছে, বাড়ানো হয়েছে অক্সিজেন ব্যবস্থা। জনবলের কিছুটা অভাব থাকলেও কেটে গেছে চিকিৎসক সংকট।
তিনি জানান, পরিস্থিতি এখোনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সংক্রমণ যদি আরো বৃদ্ধি পায় তবে অক্সিজেনসহ নানা সংকট দেখা দিতে পারে। তাই করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে সচেতন ও স্বাস্থবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।
এদিকে, চলমান লকডাউনে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেও কাঁচাবাজারগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু মানুষ কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।
গেল ঈদুল ফিতরের পর থেকে কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১১ জুন প্রথমে কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকায় এবং ১৭ জুন থেকে জেলাব্যাপী কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এরওপর ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী লকডাউন চলছে; যা কুষ্টিয়ায়ও পরিপালন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here