এভাবে কি নিয়ন্ত্রণ হবে কোভিড-১৯

0
28

আকিব রায়হান

প্রশাসন লকডাউনের উপর লক ডাউন দিয়েই চলেছে আর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কোভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না করোনা। প্রতিদিনই ভাঙছে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড। সাথে আরও একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে খেটে খাওয়া, দিন-আনা, মধ্যবিত্তদের বিপর্যয়।

এ বিপর্যয় কোন এক বেলার বিপর্যয় নয় এর মধ্যে রয়েছে অনিদির্ষ্টকালের অভাব, উৎকন্ঠা, আতঙ্ক ও নিপীড়ন। আমাদের দেশের জনগণ এখনও ৩১.৫% দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। আর ক্ষুদ্র এক অংশ ছাড়া বাকী সবাই নি¤œমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত।

পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) গবেষণায় ও জরিপে উঠে এসেছে কোভিড এর প্রভাবে বাংলাদেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ। এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছের খাবার যোগাড় করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ছে। না তারা সুযোগ পাচ্ছে বাইরে উপার্জনের; না তারা পাচ্ছে সরকারি সহযোগিতা। আবার রয়েছে প্রশাসনের চাপ; বাইরে বের হলেই বিড়ম্বনা, জরিমানা সহ নানা সমস্যার মুখমুখি হতে হচ্ছে। এখন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার সদস্যরা একসাথে প্রশাসনের হয়ে কাজ করেছেন।

এসব ক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্ব যারা পালন করছেন মাস শেষে তাদের বেতনটা কিন্তু একাউন্টে ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে। তাই তাদের অবস্থান সাধারণ মানুষের অবস্থার সাথে মেলে না। যদি ওনাদের বেতন কিছু দিন বন্ধ রাখা হত যেমন লকডাউনে সাধারণ মানুষের উপার্জন বন্ধ তাহলে ওনারাও আম-জনতার সমস্যা উপলব্ধি করতে পারতেন। কেন সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন ? শুধু বাজার বা ঔষধ কেনার জন্য মানুষ বের হবেন; এগুলি কেনার জন্য টাকা তাদের জোগাড় করতে হচ্ছে সেগুলির যোগান কিভাবে হবে?

এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বাড়িতে না আছে অনেক টাকা জমানো, না আছে কোন গুপ্তধন আছে যে তারা বাসায় বসে সেগুলি দিয়ে চলবে। আপনার পেটে যদি ক্ষুধা থাকে তাহলে আপনি আরেকজন ক্ষুধার্থের কষ্ট বুঝবেন। যারা নীতি নির্ধারণের জন্য বসে আছেন তারা কেউ কিভাবে বুঝবেন!

এখানে প্রসঙ্গত তারা রোগ থেকে বাঁচানোর কথা ভাবছে। এদিকে যে ক্ষুদা, অভাব-এ মানুষ কিভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে সেদিকে ভাবছেন না। প্রতিদিন মৃত্যুর হারের সাথে সাথে দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত হচ্ছেন অনেকে। যদি লকডাউনে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা সরকারিভাবে প্রকাশ করা যেত তাহলে এর পরিমাণ সামনে আসত।

দোকান মালিক সমিতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এপ্রিল মাসের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ৫ থেকে ১৪ জন কর্মী নিয়ে কাজ করা পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬। যা মোট প্রতিষ্ঠানের ৩৯ ভাগ। এসব প্রতিষ্ঠানে ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৯২৯ জন কর্মী কর্মরত রয়েছে। যাদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে দোকান মালিকগণ। লকডাউনের মাঝে এই কর্মীদের নিয়ে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে হাজার কোটি টাকা।

এদিকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই কারণ কর্মীদের উপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। সরকারি সহযোগিতা তো নেই বরং কর্মীদের কিছু বেতন দেওয়ার আশায় দোকান কোন রকম খুললেই গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা জরিমানা অথবা আটক হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতায় নাকাল অবস্থা এসব ব্যবসায়ীদের। কর্মীদের কিছু পয়সা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দোকান খোলাতে এখন তারা অপরাধী। সামনে ঈদুল আযহা এই ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসার সাথে সম্পৃক্তদের বেহাল অবস্থায় সময় পার করতে হচ্ছে। ঋণ গ্রহীতাদের মাথায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে মূল ভূমিকা রাখে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলি। অথচ তারাই এখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে সময় পার করছেন।

তাদের বক্তব্য বড় শিল্প কল-কারখানাগুলি চালু রয়েছে। অথচ এসব উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনিক এমন তৎপরতায় অনুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগও উঠছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে অর্থনীতি।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সরকারকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়িদের দিকে লক্ষ্য দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখে আম-জনতাকে বাচিয়ে রাখার পথকে সুগম করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here