করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যশোর বাম জোটের সংবাদ সম্মেলন, দাবি উত্থাপন

0
59

সত্যপাঠ রিপোর্ট

যশোর সহ সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যশোরে বাম গণতান্ত্রিক জোট জেলা শাখার উদ্যোগে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি (মাকর্সবাদী)’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা সভাপতি কমরেড নাজিমুদ্দিন, বাসদ (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা সমন্বয়ক কমরেড হাচিনুর রহমান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিমুর রহমান, বাসদ (মাকর্সবাদী)’র কমরেড দিলীপ কুমার ঘোষ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল জলিল, বাসদ’র কমরেড আলাউদ্দিন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- জোটের জেলা সমন্বয়ক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু।

এদিকে, আগামী রোববার (১১ জুলাই) ভার্চুয়াল মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বজন হারানোর ব্যাথা, তবিত বেদনা বিধুর হৃদয় ও একরাশ ােভ নিয়ে আমরা যশোরবাসী এক কঠিন দুর্যোগের মোকাবেলা করছি। যশোরে প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু, আক্রান্তের হার বৃদ্ধির সংবাদে মানুষ দিশেহারা। হাসপাতালে ঠায় নেই। গাছতলায়, ফুটপথেও তিল ধারণের জায়গা নেই। আপনারা জীবনের ঝুকি নিয়ে সংবাদ করছেন। ইতিমধ্যে সাংবাদিক বন্ধুদের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না, নেই অক্সিজেন, খাদ্য, পথ্য, টিকা, পর্যপ্ত টেস্ট। নেই আর নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে কথা কাজের মিল নেই। প্রতারণা আর দুর্নীতি, দায়িত্বহীনতা, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য পদত্যাগের দাবি উঠলেও সে নির্লজ্জ। সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। কিন্তু সুধরে যেতে নারাজ। দেশব্যাপী লকডাউন, খাদ্য নিরাপত্তা সরকারি তামাশায় নাজেহাল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকার ও প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট করণীয় প্রস্তাব আমরা উত্থাপন করে আসছিলাম, কিন্তু কর্ণপাত করা হয়নি। সর্বশেষ গত ১৩ জুন ২০২১ আমরা জোটের প থেকে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সাথে দেখা করে করোনা সংক্রমণ ও রোগী বৃদ্ধির দিকে ল্য রেখে করোনা হাসপাতালকে আলাদা করার দাবি করি। বন্ধ শিাপ্রতিষ্ঠানে ফিল্ড হাসপাতাল করে সংক্রমণের হারকে রোধ এবং অন্য রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার হাত থেকে রার দাবি করি। একই সাথে সংক্রমণ প্রতিরোধে খাদ্য সহায়তা দিয়ে টানা ১৫ দিনের লকডাউন দাবি করেছিলাম। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় সরকার ও জেলা প্রশাসনের কাছে তা গুরুত্ব পায়নি। যশোরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সেটি অন্যতম কারণ। সদর হাসপাতাল আজ করোনা সংক্রমণের লীলাভূমি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই করোনাকালীন সময়ে সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ রিকশা-ভ্যান চালক ও তাদের পরিবারসহ ২ কোটির অধিক লোকের রুটি-রুজির উপর আঘাত হেনেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রিকশা ভাংচুরের মত অমানবিক কাজও করেছে। সরকার উন্নয়ন প্রগতির বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৮ জুলাই ২০২১ ইং যশোর পুলিশ প্রশাসন উক্ত রিকশা-ভ্যান আটক করে প্রায় ৭শত টাকার চাল, ডাল ও তেল দিয়ে মানবিক হওয়ার ভান করছে। এই রিকশাগুলি জব্দ করে রাখলে ২৬ হাজার টাকার ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে। ১০ কেজি চাল একটি পরিবারের ৫ দিনও চলবে না। তারপর তাদের কি হবে ?

এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষে জোটের পক্ষ থেকে আবারও সরকার, প্রশাসন ও জনগণের সামনে কতিপয় সুপারিশ ও দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১) সদর হাসপাতালকে প্রধানত করোনা হাসপাতাল করা হোক। জরুরিভিত্তিতে আর্মি মেডিকেল কোরের তত্ত্ববধায়নে ফিল্ড হাসপাতাল করা হোক। তা-না হলে সাধারণ রুগীদের জীবন বিপন্ন হবে যা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী জরুরি এড-হক ভিত্তিতে নিয়োগ করা হোক।

২) জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফল দেওয়া হোক। প্রতিদিন জেলায় ১০ হাজার টেস্ট করার ব্যবস্থা করা হোক।

৩) ১৫ দিনের খাদ্য সহায়তা দিয়ে এক টানা ১৫ দিনের লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরবন্দী করে সংক্রমণের গতিকে রুদ্ধ করা হোক। কাঁচা বাজারের বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক।

৪) এই মহাদূর্যোগ মোকাবেলায় দলীয়করণ নীতি পরিহার করে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, শ্রেণী-পেশা, জনপ্রতিনিধি সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক। স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করা হোক

৫) ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সকলকে টিকা প্রদান করতে হবে। যশোর সহ সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে।

৬) করোনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৭) সরকারের অমানবিক উন্নয়ন ও প্রগতি বিরোধী ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যশোরে খাদ্য সহায়তার নামে রিকশা জব্দ করা বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, চলমান এই মহা দুর্যোগে অনেক সংগঠন তাদের সামর্থ অনুযায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তারা অক্সিজেন, খাদ্য সহায়তার কর্মসূচি সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছেন। আমরা তাদেরকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- যশোরে ঝুঁকি নিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্স, বিবর্তন, আর এন রোড অক্সিজেন সেবা, চাঁদের হাট, উদীচী, এস এস সি-৯১ ব্যাচ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here