তালা প্রেসক্লাবে উত্তরণের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন

0
76

বাপ্পী মজুমদার তালা
সাতক্ষীরার তালা প্রেসক্লাবে উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংক কার্যক্রম নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সন্ধায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংকের পক্ষে জাহিদ আমিন শাশ^ত। তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলুর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলণে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও অক্সিজেনের বিষয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তারিফ-উল-হাসান। এ সময় উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, উত্তরণ কর্মকর্তা জাহিন শামস সাক্ষর, মোঃ রেজওয়ান উল্লাহসহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলণে জাহিদ আমিন শাত বলেন, বর্তমানে সাতক্ষীরা অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি বিগত যে কোন সময়ের তুলনায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ৪ জুলাই সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় ৩৬২৮ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগি আছে এবং সংক্রমণের হারও আশংকাজনক। একইসাথে সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী জেলা এবং দেশের অন্যতম দুর্যোগপীড়িত জেলা। দেশের অন্যতম দুর্যোগপীড়িত এলাকা হিসেবে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা দেশের অপরাপর এলাকার তুলনায় অত্যন্ত নাজুক। বছরের একটা বড় সময় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মানুূষ পরিজায়ি শ্রমিক হিসেবে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায়, শহরে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতা এসকল অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতক্ষীরায় ফিরে আসছে। এতে করে সংক্রমণের হার অশংকার চেয়েও বেড়ে গেছে। তাছাড়া করোনা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় সংক্রমিত রোগির চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারী হাসপাতাল কাজ করছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা সংখ্যা অনেক কম সেটা আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি। সংকট আছে প্রয়োজনীয় নানান জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জামেরও। যেমন- অতি প্রয়োজনীয় মেডিকেল অক্সিজেন। অক্সিজেনের অভাবে মানুষের অচিন্তনিয় দূর্ভোগ, এমনকি প্রাণহানির খবরও আপনাদের মাধ্যমে আমাদের গোচরিভুত হচ্ছে। চিকিৎসকদের সুপারিশ থাকলেও গ্রামে বসবাসরত সমাজের একটি বড় অংশের মানুষ জরুরী প্রয়োজনে অক্সিজেন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্চে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াসহ নানা প্রতিকূলতায় রয়েছে। এছাড়া রয়েছে দক্ষ জনবলের সংকট ও মানুষের অসচেতনতা।

তিনি আরও বলেন, মানুষের এহেন বিপর্যস্থ পরিস্থিতিতে উত্তরণ প্রতিষ্ঠা করেছে ‘‘উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংক”। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ ব্যাংকের সিংহভাগ তহবিল ‘উত্তরণ’ তার নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করছে। বর্তমানে এই ব্যাংকের আলোকে ৭২ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আনুষঙ্গিত উকরণসহ সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী আছে। এছাড়া একটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সংগ্রহে আছে। ইতোমধ্যে উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি হটলাইন নাম্বার খোলা হয়েছে। রাত-দিনের যে কোন সময় সপ্তাহের যে কোন দিন আমাদের হটলাইন নাম্বারে একটি ফোন কলই অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দেবে রোগির দ্বারপ্রান্তে। অক্সিজেন সিলিন্ডার করোন সংক্রমিত রোগির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংকের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও উত্তরণ অক্সিজেন ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সাতক্ষীরা ব্ল্যাড ফাউন্ডেশনের সাথে। এছাড়া স্থানীয় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদেরকে সহায়তা করছে। এছাড়া যে কোন ব্যাক্তি, সরকারী-বেসরকারী-স্বেচ্ছাসেবী যে কোন প্রতিষ্ঠান/সংগঠন আমাদের ব্যাংক থেকে জরুরী প্রয়োজনে অক্সিজেন নিয়ে অক্সিজেন সেবা প্রদান করতে পারবে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে যে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাশ্বত স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে আহবান জানান। এ কার্যক্রম বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা, কলারোয়া, আশাশুনী এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চলমান আছে। ভবিষ্যতে সামর্থ্য বৃদ্ধি সাপেক্ষে এ কার্যক্রম সমগ্র জেলাব্যাপী এমনি পাশ্ববর্তী জেলাতেও সম্প্রসারণ করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের উপর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রসাশনও প্রয়োজন মাফিক বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি এ সময় উল্লেখ করেন, সরকারের সহযোগী হিসেবে তারা এ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোন সংক্রমণ শুরুর সময়ে অর্থাৎ বিগত বছরের এপ্রিল-মে মাসে উত্তরণ সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা ও যশোরের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ করোনা মোকাবেলায় জরুরী উপকরণ প্রদান করা হয়েছিল। এ সময়ে পঞ্চাশের অধিক অক্সিজেন সিলিন্ডিার এবং ফ্লোমিটার হাসপাতালগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারী সহযোগিতার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here