বেনাপোল কাস্টমস হাউজে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা

0
110

বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল কাস্টমস হাউজে লক্ষমাত্রার চেয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব আহরনের হিসাব শেষ হয় ৩০ জুন। বছরটিতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে মাত্র ৪১০০ কোটি টাকা। করোনার কারনে নানান প্রতিবন্ধকতায় এত বড় অংকের ঘাটতি মন্তব্য কাস্টমসের।

এর আগেও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এছাড়া বন্দর ও কাস্টমসের নানান অনিয়ম, শুল্কফাঁকি ও অব্যবস্থাপনায় অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছাড়ায় গত ৭ /৮ বছর ধরে এ বন্দরের কাস্টমস হাউসে রাজস্ব ঘাটতি হয়ে আসছে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

তথ্য অনুযায়ী এর আগেও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি ১১৪৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ তে ঘাটতি ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ তে বেশি আদায় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘাটতি ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ তে ঘাটতি ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ তে ঘাটতি ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতি পরিমান ছিল ১৯৪ কোটি টাকা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, গেল দুই বছর করোনার কারনে ব্যবসায়ীরা ভারতে যেতে না পেরে চাহিদা মত পণ্য আমদানি করতে পারেননি। এতে রাজস্ব আয় ব্যহত হয়েছে। তবে বাণিজ্যি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে সকল অবকাঠামো বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস হাউজে থাকার কথা তা অনেকটা নাই। এতে লোকশানের কবলে পড়ে অনেকে এপথে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন। এটাও বেনাপোল বন্দরে কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ঘাটতির কারণ।

বেনাপোল বন্দরের সিএন্ড এফ ব্যবসায়ি আমিনুর রহমান জানান, বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষনের প্রয়োজণীয় সব ব্যবস্থ্যা নাই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে যেমন প্রচুর সময় অপচয় হয় তেমনি বন্দরে আটকে থাকা পণ্যে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। বেনাপোল কাস্টমস হাউজে বিএসটি আই ও বিএসআইরের শাখা স্থাপনের দাবী আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজস্ব আয় কমার ক্ষেত্রে এটিও একটি বড় কারণ মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

আমদানি কারক পিয়াস ইন্টারন্যাশনালের সত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করে থাকে। তবে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষ জনক না। আমদানি কারকদের নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বন্দরে পণ্য পাহারা দিতে হয়। বন্দর থেকে পণ্য চুরি, বারবার রহস্য জনক অগ্নিকান্তে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যবসা বন্ধ করেছেন। এছাড়া এ বন্দর দিয়ে বৈধ পথে মাদক দ্রব্য প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে ভদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। এসব কারনে পর পর ৮ থেকে ৯ বছর ধরে এ বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাহিদা মত রাজস্ব আহরণ করতে পারছেন না।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।পণ্যগারের জন্য জমি অধিগ্রহন, নতুন পণ্যগার নির্মান ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আরো জমি অধিগ্রহন ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলমান বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল কবীর বলেন ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে গেল অর্থ বছরে। করোনার বিরুপ প্রভাবে এত বড় অংকের রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে রাজস্ব আয়ের পরিমান কমলেও রাজস্ব আহরনের গ্রোথ ছিল বেশি। সঠিক নিয়মে রাজস্ব আহরনে সক্রিয় হয়ে কাজ করছেন কাস্টমস সদস্যরা। যারা অনিয়ম করার চেষ্টা করেছেন তাদের জরিমানা, লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here