পঙ্গু লিটনের শেষ আশা সরকারী একটি ঘর পাওয়া

0
47

সহিদুল ইসলাম, মধুখালী

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নে পূর্ব আড়পাড়া গ্রামে আবুল কাশেমের সংসারে জন্ম গ্রহন করেন মোঃ লিটন মিয়া। সংসারে অভাবের তাড়নায় তেমন লেখাপড়া করতে পারে নাই। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর সংসারে হাল ধরতে গিয়ে ২০০১ ইং সনে জমি চাষ করতে গিয়ে পাওয়ার ট্রিলারে পা কেড়ে নেয়। এরপর থেকে পঙ্গুত্বভাবে জীবন যাপন করতে হয়। এই ভাবেই ২০০৩ ইং সনে সংসার জীবন শুরু হয়। তার কয়েক বছর পর ২০০৮ইং সন থেকে শুরু করেন মাঝিবাড়ী বাসষ্ঠান্ডে চা-সহ পান বিড়ি সিগারেটের দোকানদারী করেন। এর মধ্যে মনে ইচ্ছা জাগে জনসেবা করার। তখন তিনি আড়পাড়া ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ড থেকে ২০১২ইং সনে নির্বাচন করে জনগনে ভোটের বিজয়ী হয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি নিজের জন্য কোন চিন্তা-ভাবনা করেন নাই।

জনগনের উন্নয়নের চিন্তা করে অপরের উন্নয়ন করে গেছেন। তার আমলে তিনি নিজের জন্য একটি সরকারী ঘর পেয়েও নিজে না নিয়ে অন্যের নামে ঘর বরাদ্ধ দিয়ে গেছেন নিজের জন্য চিন্তা করেন নাই। বর্তমান তিনি পাটকাটির ঘরে পচা টিনের বারান্দা দিয়ে বসবাস করছেন। এই ঘরেই জন্ম হয়েছে দুটি কন্যা সন্তান। তার এখন চিন্তা মেয়ে দুটি বড় হচ্ছে আর চিন্তা বাড়ছে। নাম (১) লিজা(১০) (২) লিমা(৭)।

পঞ্চম ও প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। পঙ্গু লিটন বলেন আমার এই সামান্য চায়ের দোকান দিয়ে কোনমত সংসার চলে। মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর ঘর মেরামত করা আমার পক্ষে কোনদিন সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন আমার বাড়ীতে ৫শতাংশ জমি আছে। তাই আমি শুনেছি সরকার মুজিব বর্ষে ঘোষনা দিয়েছেন যিনি গরীব যার জমি আছে ঘর নাই। তার সরকারী ঘরের ব্যবস্থা হবে। আমি তারই একজন।

তাই আমার এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মোল্যা এবং মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের নিকট আকুল আবেদন আমার সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপহার হিসেবে আমাকে একটি সরকারী ঘরের ব্যবস্থা করতে মর্জি হয়। যাতে সে তার পঙ্গু জীবনে একটি ঘর দেখে যেতে পারে এটাই তার জীবনের শেষ আশা এবং পাওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here