শালিখায় অবাদে চলছে পাখি শিকার

0
22

লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডল, শালিখা

পরিবেশ আইনে বন্য প্রাণী ও পশু পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ হলেও অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এক শ্রেনির লোক এই অপরাধ মূলক কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত। আইন বাস্তবায়ন করতে রয়েছে মন্ত্রণালয়। আসলে তাদের কাজ কি? এটা প্রশ্ন বিদ্ধ। কঠিন আইন থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসৎ মানুষ বন্দুক, এয়ার গান, স্থানীয় পাখি ধরার বিভিন্ন ফাঁদ সহ নানা প্রকার যন্ত্র দিয়ে পাখি সহ বিভিন্ন প্রানী শিকার করছে।

শীত মৌসুমে সাধারণত শালিখা উপজেলা সহ মাগুরা জেলার বিভিন্ন খাল-বিল সহ বিভিন্ন জলাশয়ে বিভিন্ন ধরণের পাখির আগমন ঘটে। তখন নানা ধরনের শখের শিকারিরা দূর-দুরান্ত থেকে পাখি শিকার করতে আসেন। এ ছাড়াও উপজেলার কিছু পেশাদার শিকারি সারা বছর ধরে পাখি শিকার করে বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারে বিক্রি করে। এর মধ্যে উজগ্রামের পাখি শিকারি ধলা বিশ্বাস, আক্তার বিশ্বাস, লুৎফার ও তোতা মিয়া। এদের মত শিকারিদের অবাধে পাখি শিকারের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হতে চলেছে। এ ধরণের আচরণ আইন পরিপন্থী। পরিবেশ আইন অনুসারে যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।

১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।

এখন প্রশ্ন শিকার নিষিদ্ধ, তবে কেন বন্দুক? আর এ বন্দুক নিয়ে প্রভাবশালী মহল গ্রাম এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে পাখি শিকার করে। বন্দুক, এয়ার গান নিয়ে আওয়াজ করে পাখি শিকার করে আর আইন চোখ বুঁজে না দেখার ভান করে। বন্দুক, এয়ার গান পাখি শিকারের কাজে ব্যবহার হলে, সে বন্দুক জব্দ করা উচিত। এ ব্যাপারে শালিখা উপজেলার বীর মুক্তি যোদ্ধা সরদার ফারুক আহম্মদ বলেন, সরকারি আইনই নয় ধর্মীয় ভাবেও এ ধরনের কাজ জঘন্য অপরাধ। লালন গবেষক শ্রী ইন্দ্রনীল বলেন, এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে আইনের যথাযথ ব্যাবহার নিশ্চিত জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here