আশাশুনিতে হালখাতা ও এনজিও’র কিস্তি আদায়ের হিড়িক, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

0
32

এম এম নুর আলম, আশাশুনি

সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী করোনা ভাইরাসের ২য় ঢেউয়ে করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউন চলছে। লকডাউনে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কাঁচা বাজার নিত্য পণ্যের দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও নির্দেশ অমান্যের ঘটনা অহরহ ঘটে যাচ্ছে।

এছাড়াও মানুষ যখন অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন ঠিক তখনই এনজিওগুলো ঋণের কিস্তি আদায় ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হালখাতার আয়োজন করায় আর্থিক সঙ্কটে থাকা সাধারন ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য চলছে মাইকিং। জুনের মধ্যেই বিলম্ব মাশুল ছাড়া বিদ্যুৎ বিল দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এদিকে, আশাশুনিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যেগুলো নমুনা পরীক্ষা না হওয়ায় স্বাভাবিক মৃত্যু হিসাবে রয়ে গেছে। উপজেলার সকল ইউনিয়নে কমবেশী করোনা উপসর্গ নিয়ে মানুষ স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে। তারপরও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার উৎসব চলছে বিভিন্ন এলাকায়। সকল হাট বাজারে সকাল থেকে মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। বিকালেও মানুষ বিভিন্ন হাটবাজার ও মোড়ে মোড়ে অযথা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মুখে কারো কারো মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেলেও অনেকে মাস্ক ছাড়াই বাইরে আসছে। মানুষের অহেতুক বাড়ি থেকে বাইরে আসা বন্দ করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এছাড়া বাজারে ঢুকে কঠোর হয়ে মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্দ করাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকের উপর লাঠির ব্যবহার, মৌখিকভাবে সতর্ক করা ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্দ করতে যানবাহন আটক করে সরকারি নির্দেশ পালনে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু চরম অবহেলায় থাকা মানুষ পুলিশের কিংবা প্রশাসনের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে দৌড়ে পালালেও পরে আবার ঠিকই ফিরে আসছে। তবে পুলিশের মহড়া ও প্রশাসনের আগমনে অনিয়ম কমানো সম্ভব হলেও উপজেলার অনেক এলাকায় লকডাউন অমান্যের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

পুলিশের তৎপরতার সাথে সাথে জন প্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান বৃদ্ধি করা দরকার বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এদিকে, একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে এই মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নাই কিন্তু প্রতিনিয়ত হালখাতা এবং কিস্তির জন্য চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। করোনা মহামারী শুরুর পর এমনিতেই উপার্জন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তার উপর এনজিও’র কিস্তি তাদের কাছে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, কখনও মোবাইল ফোনে, কখনও বাড়িতে গিয়ে সুদের হার বৃদ্ধি পাবে মর্মে ভয় দেখিয়ে ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা। ফলে নিরুপায় হয়েই ধার দেনা করে অতিকষ্টে এনজিও’র কিস্তি দিতে হচ্ছে ঋণ গ্রহীতাদের। ইজিবাইক চালক, ভ্যান চালক, ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালকরা ঠিকমত যাত্রী পাচ্ছেন না।

ছোট খাট দোকানীদের বিক্রয় সীমিত ভাবে চলছে। অনেকে দিন মজুরদের ঠিক মত কাজ হচ্ছে না। কিন্তু এঅঞ্চলে করোনা আতংকিত হয়ে মানুষের পিছু ছাড়ছে না বিভিন্ন এনজিও’র কর্মীরা। কর্মীদের নেই কোন করোনা প্রতিরোধক সরঞ্জম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মীরা বাড়িতে যেয়ে কিস্তি আদায় করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, করোনার কারণে কাজ কাম নাই বললেই হয়। তারপরও এখন কিস্তির চাপ আবার চলছে হালখাতা।

সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তারপরও এসব চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে আমরা যেখান থেকে মাল নিয়ে আসি আমাদের মহাজন আমাদের চাপ দিচ্ছে টাকার জন্য।

তারা আরও বলেন, আমাদের অনেক টাকা বাকি আছে, আমরা যদি হালখাতা না দিই তাহলে টাকা উঠাতে গেলে আমাদের খুব কষ্ট হবে এজন্য আমাদের হালখাতা দিতে হচ্ছে। তবে দেনাদারদের দাবী, বর্তমানে আমাদের ইনকাম কম, তাহলে আমরা কেমন করে হালকাতা করবো ও কিস্তি দিবো। তবে হালখাতা, এনজিও’র কিস্তি আদায় বন্ধসহ লকডাউন চলাকালে আরোপিত সকল বিধি নিষেধ প্রতিপালনে প্রশাসন এর নেতৃত্বে আরও জোরলো ব্যবস্থা গ্রহণ এর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here