কিডনি পাচারকারী সহ পাচারের শিকার এক পাসপোর্টযাত্রী উদ্ধার

0
23

বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল দিয়ে এক পাসপোর্ট যাত্রীকে গোপনে কিডনি ট্রান্সফার করার উদ্দেশ্য ভারতে পাচারের সময় পাচারকারীচক্রের একজন সদস্যকে আটক করেছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় একজন নারীর পাসপোর্ট ল্যাগেজ থেকে উদ্ধার করে। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ইউনুছ নামে ওই যাত্রীকে পাচার করছিল কিডনি সংগ্রহের জন্য। তবে এক বছরের চুক্তি হয় ভারতে কাজ করলে তাকে ৩,৭০,০০০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগি পাসপোর্ট যাত্রী সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার ঢুকুরিয়াবেড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী মন্ডলের ছেলে মোহাম্মাদ ইউছুপ আলী (পাসপোর্ট নং ই এম ০৭৪৮৫৮৫)। পাচারকারী গাজিপুর জেলার আনিছুর রহমান। উদ্ধারকৃত পাসপোর্টটি কুমিল্লা জেলার বল্লভপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে রুনা বেগম (পাসপোর্ট নং এ-০০৫৪৭৮৮৮)।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করার সময় তাদের বিজিবি সদস্যরা আটক করে। এসময় আর্মড পুলিশের সদস্যরা বিজিবিকে সহযোগিতা করে।

ভুক্তভোগি ইউনুছ আলী বলেন, তাকে এক বছর ভারতে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাজের চুক্তিতে ভারত পাঠাবে বলে আনিছুর এর সাথে চুক্তি হয়। এরপর সে জানতে পারে তার শরীর থেকে কিডনি পাচার করা হবে। সে গত বুধবার রাত্রে ভারত যেতে রাজী না হলে তাকে মাথায় পিস্তল ঠেকানো হয় ঢাকায় একটি আবাসিক ভবনে। তারপর বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বিমানে করে যশোর আনা হয়। যশোর থেকে প্রাইভেট কারে করে বেনাপোল নিয়ে আসলে সে বিজিবিকে দেখে এগিয়ে গিয়ে ঘটনা খুলে বলে।

ওই নারীর পাসপোর্ট তার কাছে কেন জানতে চাইলে সে বলে আনিছুর এটা আমার কাছে দিয়েছে ভারতে যেখানে যাব তাদের কাছে দিতে। তবে ভারতে আমাকে যেখানে পাঠাবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় লোকেরা বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল চেকপোষ্টে অপেক্ষা করছে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ইউনুছ এর পিতা ইদ্রিস আলী মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন তার ছেলে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস শিল্প কারখানায় চাকরী করে। তাকে ভারতে নিযে যাওয়া হচ্ছে আমি জানি না।

এদিকে পাচারকারী আনিছুর রহমান বলেন, তার সাথে তার কোম্পানির লোকের কিডনি দেওয়া বাবদ চুক্তি হয় উক্ত টাকায়। সে মোতাবেক তাকে আমি বেনাপোল এগিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছি। তাদের ঢাকা মিরপুর ২ নং অফিস। তবে অফিসের নাম জানা যায়নি।

এদিকে উদ্ধারকৃত রুনা বেগমের সাথে আলাপ করলে সে জানায়, আমি দরিদ্র মানুষ। আমি ফেসবুকে বাংলাদেশ কিডনি ডোনার সংস্থ্যা নামে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সাথে যোগাযোগ করি। এই যোগাযোগের মধ্যে আমার নিকট থেকে আমার পাসপোর্টটি নেয় ইউনুছ আলী। এরপর থেকে সে আমার ফোন আর ধরে না। আমি আমার পাসপোর্টটি ফিরে পেতে চাই।

বেনাপোল চেকপোষ্ট বিজিবি সুবদোর আশরাফ আলী বলেন, এটা তদন্ত চলছে সিও সাহেবের নির্দেশে। সে কিডনি পাচারের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে মামলা দিয়ে থানায় সপোর্দ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here