আফরা বারভাগ দক্ষিণ বিলে স্লুইচ গেট আছে পানি বেরোনোর পথ নেই, এ যেন আরেক ‘ভবদহ’

0
66

এস. এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া

যশোরের বাঘারপাড়া ও নড়াইল সদর দুই উপজেলার বারভাগ আফরা বৃহত্তর ফসলের মাঠ এখন সারা বছর জুড়ে জলাবদ্ধতা আট দশ বছর আমন ধান চাষাবাদ হয় না। পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা থাকলেও অপরিকল্পিত ভাবে মাছ চাষের ঘের কেটে বিপাকে ফেলছে কয়েক গ্রামের চাষিদের।

চলতি বর্ষা মৌসুমে এক সপ্তাহে আষাঢ়ের ভারী বৃষ্টি হওয়ার ফলে হাজার হাজার বিঘা জমির উপরে সাগরের মত আর এক ভবদাহ রুপ নিয়েছে।

আফরা বারভাগ দক্ষিণ বিলটিতে কোমর পানি হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আশপাশের বিলের পানি কমলেও এ বিলে পানি আটকা পড়ে গেছে বেরোনোর কোন পথ নেই।

নড়াইলের আফরা, কাইজদে, গুয়াখোলা, বাঘারপাড়া উপজেলার বাকড়ী, দোগাছি, ঘোড়ানাছ, নিত্যানন্দপুর, বারভাগ, আলাদীপুর সহ বসুন্দিয়া গ্রামের অনেকের জমি রয়েছে এই বিলে। এখনকার চাষিরা কুলকিনারা হারিয়ে বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকার ছাড়া আর উপায় পায় না।

এলাকার বহু কৃষক ঘের মালিকদের কাছে বছর চুক্তিতে ধান অথবা সমপরিমান টাকা দিতে হবে এমন আবদ্ধ হয়ে জিম্মি আছে। অনেক কৃষক টাকা পায় না কয়েক বছর ধরে এমন অভিযোগ রয়েছে জমির মালিকদের।

সরেজমিনে দেখতে গেলে সাংবাদিকদের বলেন, আফরা গ্রামের রুহোল আমীন মোল্যা, আতিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, বাকড়ী গ্রামের কমরেড বিপুল কুমার বিশ্বাস, দাড়িপরের শৈলেন্দ্র বিহারি, বারভাগ গ্রামের হাসান সরদার, লিয়াকত আলী, আকরাম সরদার, আব্দুল গফুর মোল্যা, নিত্যানন্দপুর গ্রামের পান্না, বসুন্দিয়ার আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, আজিজার মোল্যা সহ আরো অনেকে জানান, বিলটিতে সমান তিন ফসল চাষাবাদ হতো এক সময়। কপাল পোড়লো একটি বিদেশি কোম্পানি। জমি মূল্য তিন গুন দাম দিতে লাগলো। লোভে পড়ে গেল কৃষকরা। একে একে মাঠ দখলে তাদের ইচ্ছে মতো বালি ভরাট করে পানি বেরোনোর সমস্ত পথ বন্ধ করে তাদের সার্থকতা পুরোন করছে।

আরো বলেন, বিলের মাঝামাঝি একটি রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তার কিছু কিছু জায়গায় খালের নাম করন রয়েছে সে গুলো হলো ডাবর খাল, আড়ো খাল, গড়ার খাল। শুধুমাত্র ডাবর খালে একটি পুল রয়েছে বাকি দুটি একটি কোম্পানির স্বার্থে বন্ধ করে দিয়েছে। গড়ার খালটি নামে মাত্র ঘের ভেড়িতে আটকা পড়েছে।

অন্যদিকে ভৈরবের নদীর সাথে সংযোগ গুয়াখোলা খাল। তাতে একটি স্লুইচ গেইট। আবার বাদাম তলায় স্লুইচ গেইট থাকলেও খাল নেই। খালের সামনে ঘের ভেড়ি তা হলে বিলের পানি নিষ্কাশনের রাস্তা কোথায় এ প্রশ্ন এখন চাষিদের মনে। কে করবে বিধি ব্যবস্থা, ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে কৃষকের। উপায় অন্ত না পেয়ে বহু মানুষ জমি বিক্রি করে গুটিয়ে নিচ্ছে।

সুযোগ সন্ধানী ঘের মালিকগন অল্প দামে বা ফাঁদে ফেলে কিনে নিচ্ছেন। কালের বিবর্তনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি, হয়তো এক সময় ধান চাষে জায়গার সংকট দেখা দিতে পারে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে রাস্তার উত্তর পাশের বিলে প্রায় দেড়’শ একর জমি বিদেশি কোম্পানির আওতায়।

তাছাড়া মালিকানা ঘের রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ একরের মত। রাস্তার দক্ষিণ পাশের বিলে ব্যাক্তি মালিকানা ঘের রয়েছে ২৫০ একরের বেশি। চাষাবাদের আওতায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার একরের বেশি।

বিষয়টি নিয়ে নড়াইলের সেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদকে জানানো হয়েছিল। তিনি উপরে কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, এ সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে এই বিলে। তিনি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উর্ধতন মহলে জানাবেন।

বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি খুব ব্যস্ত পরে বলবেন।

ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান সরদার বলেন, তিনি উপরের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। চলমান যে অবস্থায় বিলের জলাশয়ে পরিনত তাতে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়াবে আশংকা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকগন এ যেন দ্বিতীয় ভবদহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here