রেলগেটের ভূমিদস্যু আবুল বাশারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

0
17

সত্যপাঠ ডেস্ক

যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার চিহ্নিত ভূমিদস্যু আবুল বাশারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। প্রেসকাব যশোরে রবিবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন একই এলাকার ভূক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক। আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আসামিরা নালিশী জমিতে বাড়ি ঘর নির্মান করছে এই ভূক্তভোগীর অভিযোগ।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৮২ সালে ঐ এলাকায় বাটা ম্যানেজার নুর উদ্দীন ১৩.২০ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর সেখানে ঘর তৈরি করে তার আবুল বাশার গঙের কাছে ভাড়া দেন। ১৯৮৩ সালে নুর উদ্দীন মারা গেলে মৃত সইজ উদ্দীন মাঝির পুত্র আবুল বাশার ও তার শশুর, শাশুড়ী, শালা শ্যালিকারা মিলে জমি ও বাড়ি রাতারাতি দখল করে নুর উদ্দীনের স্ত্রী, পুত্র কন্যাকে রেলগেট থেকে তাড়িয়ে দেন। এরপর পাওয়ার অব এটর্নী বলে আব্দুর রাজ্জাক উল্লেখিত জমি দাবি করে আদালতে মামলা করেন। জমিটির অবস্থান ৭৭ নং চাঁচড়া মৌজা সি এস খতিয়ান নং ৬৬১, এস এ খতিয়ান ৬৬৭ সি এস দাগ নং ১৩৫, ১৩৬ এর ৫৫৩ এসএ দাগ।

বর্তমানে আদালতে চলমান জমির মামলাটি রায়ের অপেক্ষায়। আর এটা বুঝতে পেরে আবুল বাশার গং ভয়ঙ্কর চক্রান্ত শুরু করেছে। এই চক্রের সদস্যরা আব্দুর রাজ্জাক কে খুন করার অভিপ্রায়ে আঘাত করে। ভাগ্য সহায় হওয়ায় তিনি প্রানে বেঁচে যান। পরে এ বিষয়য়ে একটি মামলা করেন। মামলা নং ১৫/৬৬৮ তাং ০৪/০৭/১৫। এই মামলার আসামিরা হচ্ছে, ১. আবুল বাশার, পিতা- সইজ উদ্দিন মাঝি ২. লাল বাবু ৩. ইসলাম সর্ব পিতা- অলি মোহাম্মদ ৪. জহির, পিতা- ইসাহক আলী ৫. মুন্না, পিতা- তমিজ কুলি ৫. আয়নাল, পিতা- অজ্ঞাত সর্ব সাং রেলগেট পশ্চিম পাড়া। ধারা ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮০, ৪২৭, ৩৫৪. ৫০৬ পেনাল কোড। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এতিম সম্পত্তি রক্ষায় এই জমির দাবিতে মামলা করায় তাকে এসিড মামলা, নারী নির্যাতন, চাদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসাতে অপতৎপরতা চালায়।

এরপর আসামিরা ঐ জমিতে বাড়ি ঘর নির্মান শুরু করলে আব্দুর রাজ্জাক গং আদালতের দ্বারস্ত হন। বিজ্ঞ আদালত নালিশী জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্ত তা না মেনে আবুল বাশার গং সেখানে দিনের বেলায় নির্মান কাজ চালাচ্ছে। প্রশাসনের সদস্যরা নিষেধ করতে গেলে গং প্রধান আবুল বাশার নিজেকে পুলিশের অনেক বড় কর্তার সাথে যোগাযোগ দাবি করে তাদের অনুকুলে আনতে প্রচ্ছন্ন হুমকি ধামকি দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন এই সেই আবুল বাশার যাকে যৌথ বাহিনী চোরাকারবারী ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করেছিল।এই ভূমিদস্যু ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পূর্ব ফলুহার ও রেলগেট পশ্চিমপাড়ার দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি জবর দখল করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এটি এই অভিয্্ুক্ত ভূমিদস্যু ও তার গঙের বিরুদ্ধে ৫ম সংবাদ সম্মেলন।

এর আগেও দুই জন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এই চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক কার্যালয় ভাংচুরসহ বহু মামলা রয়েছে। আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন নিখিল বঙ্গ নাগরিক সংঘ ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও নরেন্দ্র মোদীর কাছে অভিযোগ করেছে। এই ভূমিদস্যু বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের নটুবর ঘোষের জমি জবর দখল করে ঐ পরিবারের সদস্যদের তাড়িয়ে দিয়েছে বলে সেখানে অভিযোগপত্র করা হয়েছে।

জবর দখলকৃত জমিটি নিজ জিম্মায় রাখতে এই বাশার স্থানীয় চিহ্নিত নারী ইয়াবা ব্যবসায়ি লাইলী কে সাথে নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও জেসমিন আক্তার, শাহিদা বেগম, হিরা বেগম, ময়না বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here