দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে বাঘারপাড়ার ভিটাবল্যায় মানববন্ধন, ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)’র জেলা কমিটির বিবৃতি

0
28

এস.এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া

বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ও বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে যাওয়া পদ্মা সেতু রেলওয়ে প্রকল্প। কয়েক দিনে বৃষ্টিতে দুই ইউনিয়নে আট দশটি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয় পড়েছে। সেই সাথে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

এদিকে, পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকা ও অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু এক বিবৃতি দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০ জুন রোববার সকালে এলাকার মানুষ ক্ষীপ্ত হয়ে রেল প্রকল্পের কাজ করা শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেয়। দুই ইউনিয়নের পানি বন্দি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম গুলো হলো, জামদিয়া, আদমপুর, তেঘরী, ঘোড়ানাছ, কমলাপুর, চকেরডাঙ্গা, ভিটাবল্যা, বাসুয়াড়ী, সাইটখালী, রাধানগর, বাগডাঙ্গা। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ গুলো দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে বেলা ১১ টায় ভিটাবল্যা রেল প্রকল্পের রাস্তার উপর মানববন্ধন করেছেন।

উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মোল্যা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিথীকা রানী বিশ্বাস, কমরেড বিপুল কুমার বিশ্বাস, কমরেড মিজানুর রহমান মিজান কমরেড আব্দুর সবুর মোল্যা, কমরেড আজাদ রহমান বিশ্বাস, বিশিষ্ট সমাজ সেবক আসলাম হোসেন, জাতীয় পার্টির অন্যতম নেতা সাবেক সেনা সদস্য ইকবাল হোসেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডা. আব্দুল হক, বিশিষ্ট সমাজ সেবক সাবেক ইউপি সদস্য ওলিয়ার রহমান খন্দকার সহ এলাকার সামাজিক রাজনৈতিক সূধী সমাজের মানুষ সহ শত শত কৃষক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা কমিটির বিবৃতি

অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী)’র যশোর জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পরিবেশ প্রতিবেশের দিকে ল্য না রেখে যে কোন উন্নয়নই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। আমরা শুরু থেকেই ঢাকা-খুলনা বা বেনাপোল-ঢাকা রেলপথের কারণে পানি নিষ্কাশনের কি হবে- বলে আসছিলাম। তিনদিনের বৃষ্টিতে তা প্রমাণিত হলো।

আমরা অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখে রেলপথের কাজ করার দাবি জানাচ্ছি। গোটা রেলপথে পানি নিষ্কাশনের পথ রাখার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ রেলপথের উপর তৈরি কালভার্ট-সেতুগুলি বড় করার দাবি জানাই। তা না হলে এই রেলপথ নতুন ভবদহের জন্ম দেবে।

উল্লেখ্য, বাঘারপাড়া উপজেলার দক্ষিন অঞ্চলে একদিনের ভারি বৃষ্টিতে কয়েকটি বিলে পানি থৈথৈ করছে। আমন ধান রোপণের অনিশ্চয়তা অধিকাংশ বীজতলা তলিয়ে গেছে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুঃচিন্তায় চাষিরা। গত কয়েক দিন ধরে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেও শনিবার (১৯ জুন) ভোর রাতে অতিমাত্রার ভারী বৃষ্টির ফলে উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ, নিত্যানন্দপুর, ঘোড়ানাছ, দোগাছি, বাকড়ী গ্রামের কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এক দিনেইি সাগর সৃষ্টি হয়ে গেছে।

তার মধ্যে বারভাগ আফরা দণি বিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর যাবত জলাবদ্ধতা আমন মৌসুমে ফসল না হলেও বোরো মৌসুমে ভাল ফসল হয়ে আসছিল। এবছর ৭/৮ মাস বৃষ্টি পাত না হওয়াতে বিল গুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাওয়ায় আমন ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখছিল। আগে ভাগে আমনের বীজ তলায় চারা উৎপাদনে প্রস্তুতি নিলেও তাও গেল পানির নিচে। বারভাগ গ্রামের নজরুল ইসলাম, আকরাম সরদার, সাত্তার সরদার, হাছাদ সরদার, হাছান সরদার, বসুন্দিয়ার আনেজ খান সহ আরো অনেকেই বলেন, আজ থেকে ১৫/২০ দিন আগে আমন ধানের বীজ বপন করে ছিলাম। চারাও ভাল হয়ে ছিল, কিন্তু নিয়তির খেলা একদিনের বৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেল। আমন ফসলের আর আশাভরসা নেই। বিলের পানি বের হওয়ার কোন পথ না থাকায় চাষিরা এই মহা বিপাকে পড়েছে। আট দশ বছর পুর্বে বিলে এমন অবস্থা ছিল না। কিছু ঘের মালিকদের কারণে বর্তমানে চাষিদের কপালে দুর্দিন নেমে এসেছে। বৃষ্টি হলেই জলাশয়ে রুপান্তরিত পানি থৈ থৈ সাগরের মত রুপ ধারণ করেছে বিলগুলোতে। যার ফলে দুরাবস্থা এলাকার চাষিদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here