আশাশুনিতে করোনার উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে

0
106

এম এম নুর আলম, আশাশুনি

আশাশুনি উপজেলায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ যুক্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বাজারে অবস্থিত গ্রাম্য ডাক্তারদের চেম্বারে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ যুক্ত রোগী অহরহ দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের রোগীরা এসকল ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভীড় করছেন।

জানাগেছে, কেউ সাতদিন কেউবা পনের দিন ধরে সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছেন। পরিবারের একজন থেকে শুরু হয়ে এক এক করে এ ধরনের উপসর্গে পরিবারের সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু তারা পরীক্ষা না করে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও বাড়ির লোকজনের সাথে নিবিড় ভাবে মেলামেশা করছেন। আবার ঐসকল বাড়ির লোকজন বাজারে এসে বা যত্রতত্র ঘোরাফেরা করে এ সংক্রামক ব্যাধি অন্য পরিবারেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পার্বতী রাণী রাহা (৬০), বাক্কার (৪৫), আনোয়ার খাতুনসহ কয়েকজন ইন্তেকাল করেছেন।

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জরিমানা ও সতর্ক করলেও কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর এসকল লোকজন পূর্বের ন্যায় মাস্ক ছাড়া যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসকল মানুষ সরকারি জরিমানাকে কিছুটা ভয় করছে কিন্তু নিজের জীবন ও পরিবারের সকলের জীবনকে নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার জানান, করোনা ভাইরাস নামক এই মরণ ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে সকলকে সচেতন থাকা উচিত। একমাত্র সচেতনতাই পারে এ ভাইরাস থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে।

তিনি আরও জানান, উপজেলার কোন ব্যক্তির যদি করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই তাকে পরিবার ও লোকজন থেকে অন্তত ১৪ দিন আলাদা থাকতে হবে। এসময় তিনি করোনা ভাইরাস নামক ব্যাধি থেকে উপজেলার মানুষকে রক্ষা করতে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলে সকলকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন বলেন, এসব রোগিদের সার্বিক দিক মনিটরিং করা খুবই প্রয়োজন। আমরা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কার্যক্রম নিতে বলে এসেছি। অনেক স্থানে সে দায়িত্ব যথাযথ পালিত হচ্ছেনা আমরা খবর পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক রোগির অনীহা ও গাফিলতি হতাশা জনক। এব্যাপারে আমি ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারগণকে চিঠি ও ফোনে কথা বলেছি। এছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে মনিটরিং করার দায়িত্ব দিয়েছি। আমিও তদারকি করবো। পুলিশকেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কথা বলবো। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আশাশুনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম বলেন, নিজে বাঁচতে হবে, পরিবারকে বাঁচাতে হবে ও উপজেলাবাসীকে বাঁচাতে হবে। এমন চিন্তা নিয়ে উপজেলার সকল মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে করোনা প্রতিরোধে দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে।

এসময় তিনি উপজেলাবাসীকে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলার আহবান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here