আশাশুনিতে বিদ্যুতের লুকোচুরিতে বিপাকে গ্রাহকরা

0
55

এম এম নুর আলম, আশাশুনি

যে কোন জিনিসের সীমা পরিসীমা থাকে। মানুষ সীমার মধ্যে থাকলে তা মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু সীমাহীন ও অসহনীয় কোন কিছু মানুষকে চরম দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে ফেলে রাখে। পল্লী বিদ্যুতের ব্যবহার আশাশুনির গ্রাহকদেরকে এমনই পরিস্থিতির মুখোমুখি করে তুলেছে। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিব্যক্তি ও উদগীরিত প্রতিবাদের ভাষাও কষ্টের শেষ প্রান্ত স্পর্শ করে বের হচ্ছে। উপজেলার মানুষ যুগযুগ ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছে।

বিদ্যুৎ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হাত বদলও দেখেছে তারা। তাদের ব্যবহার, বিদ্যুতের সেবাদান এবং ঝড়-বৃষ্টি, রৌদ্র-শীত, কৃষিক্ষেতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক কিছুর স্বাক্ষী আজকের গ্রাহকরা। সরকার কোটি কোটি মানুষের নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে, আবার রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুতের উৎপাদনও বাড়িয়েছে। আগে বিদ্যুৎ গ্রাহক কমছিল, বিদ্যুৎ কর্মীও ছিল খুবই সামান্য। বর্তমানে গ্রাহক বেড়েছে, অনেকগুণ কর্মীও বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। সেবার মানও অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। কিন্তু মেঘ দেখলে বিদ্যুৎ উধাও, বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের প্রস্থান, ঝড় হলে বিদ্যুতের গহীনে পলায়ন এবং ঘন্টার পর ঘন্টা নয় বরং দিনের পর দিন বিদ্যুতের দেখা না পাওয়া।

দিনের মধ্যে শত শত বার বিদ্যুতের আনাগোনা, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিদ্যুতের চেহারা দেখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লুকিয়ে রাখার মত ঘটনা এখন গ্রাহকদের কাছে পরিচিত কাহিনীতে রূপ নিয়েছে। এমন ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো খোলা থাকলেও রিসিভ হয়না বা নম্বর ব্যাস্ত করে রাখেন তারা।

আবার রিসিভ হলেও জবাবটা এমন আসে যে, তাদের কিছ্ইু করার নেই। মেইন লাইনে ফল্ট। কাজ চলছে। অথবা নিয়ম মত লোডসেডিং চলছে। অথবা জাতীয় গ্রিডের সমস্যা। এমন ঘটনার অমন জবাব কিংবা ঘটনা যাই ঘটুক আর জবাব যাই আসুক, ফলাফল তথৈবচ। বরাবরের মত দিবারাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে সামান্য সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। অন্যথায় অপেক্ষার পালা সহ্য করতে হবে। আশাশুনির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সত্যি চরম বিপত্তির মধ্যে রয়েছে।

তারা কোন ব্যাখ্যায় বিশ্বাস রাখতে পারছেনা। তারা বিদ্যুৎ দেখতে চায়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চুলচেরা হিসাব করে দেখবেন কি? অবস্থার অবনতি বৃদ্ধি না ঘটিয়ে এর থেকে পরিত্রান চায় দুর্ভাগা আশাশুনির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here