প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস ছিনতাই করা তাদের পেশা

0
127
ডিবির হাতে আটক গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা

সত্যপাঠ ডেস্ক

যাত্রী সেজে প্রাইভেটকার ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার নরসিংদী এবং কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই চক্রের সদস্যরা বিদেশ ফেরত আত্মীয়কে বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করবে বলে প্রাইভেটকার ভাড়া করে। তারপর সুবিধাজনক স্থানে গিয় চালকের হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো- মীর মিজান মিয়া, হাবিব মিয়া, ফারুক, কামাল মিয়া, আল আমিন ও মোবারক। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করে ডিবি।

এদিকে এই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতারের পর শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, একটি ডাকাতির মামলার তদন্তে এই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অল্পদিনের জন্য ছুটিতে আসা প্রবাসীদের কাছে কম দামে প্রাইভেটকার বিক্রি করে দেয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, চক্রের সদস্য হাবিব মিয়া গত ২১ এপ্রিল এক আত্মীয়কে বিমানবন্দর আনার কথা বলে কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। হাবিবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাইক্রোবাসচালক আবুল বাশার করিমগঞ্জ থানা এলাকা থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ১১টার দিকে মাইক্রোবাসটি ঢাকার আবদুল্লাহপুর পৌঁছলে যাত্রী সেজে থাকা ব্যক্তিরা লুঙ্গি, গামছা ও দড়ি দিয়ে চালকের হাত-পা বেঁধে মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। চক্রের সদস্য ফারুক গাড়িটি চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নরিকান্দী রোডে নিয়ে যায়। সেখানে চালক আবুল বাশারকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে তারা কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড নিয়ে যায়। গাড়িটি মিজান নামের এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ওই চক্র। মিজান ভুয়া নম্বর প্লেট ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় গাড়িটি চালাতেন।

তিনি জানান, এই চক্রের সদস্যরা কতটি গাড়ি ছিনতাই করেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চক্রটি ছিনতাই করা অধিকাংশ গাড়ি সিলেটে নিয়ে বিক্রি করেছে। সিলেটে অনেক প্রবাসী কয়েক মাসের জন্য ছুটিতে আসেন। তারা কয়েক মাসের জন্য অল্প দামে গাড়ি কিনতে চান। চক্রটি এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছিল। গাড়ি কেনার সময় তারা (ক্রেতারা) বুঝতে পারেন না, সেটি ছিনতাই হওয়া গাড়ি কি না। তবে পরে তারাই ফেঁসে যাচ্ছেন। গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই বিআরটিএর অনুমোদন আছে কি না এবং গাড়িটির কাগজপত্র সঠিক আছে কি না, সেটি যাচাই করা উচিত।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে অব্যবহৃত সিম কিনে ব্যবহার করতো। তারা মনে করতো এই সিম ব্যবহার করলে তাদের ধরা যাবে না। নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম অন্যকে না দেওয়ার অনুরোধ জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here