বাজেট : দুই মন্ত্রী দুই রকম কথা॥ ধ্রুমজালে সাধারণ মানুষ

0
58
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান
সত্যপাঠ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শুক্রবার দুই মন্ত্রী দুই রকম বক্তব্য রেখেছেন। যা শুনে সাধারণ মানুষ ধ্রুমজালের মধ্যে পড়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা ঋণ নেবো না, দেবো। শুক্রবার বাজেট পরবর্তী ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।
আর পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন, ঘাটতি পূরণে আমরা ধারদেনা করবো। শুক্রবার বিকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমরা ঋণ নেবো না, দেবো: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভারতসহ অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন ঋণ দেওয়ার সময় এসে গেছে। আমরা ঋণ নেবো না, ঋণ দেবো। শুক্রবার বাজেট পরবর্তী ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে, গত বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। দেশ স্বাভাবিক হলে আবারও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেখাবো। আমরা এর আগে যা বলেছি তাই করেছি এবারও করে দেখাবো।
তিনি আরও বলেন, ৭ দশমিক ২ অর্জন করবো। সারা বিশ্ব যখন নিচের দিকে যাচ্ছে আমরা উপরের দিকে যাচ্ছি। আমরা যা বলি তাই করি। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অর্জন করে দেখাবো। আমারা সারা পৃথিবীতে আলোচনার বিষয়- আপনারা মানেন আর না মানেন। আমাদের ডেট টু জিডিপি ৪০ এর নিচে। সময় যত যাচ্ছে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে।
ঘাটতি পূরণে আমরা ধারদেনা করবো: পরিকল্পনামন্ত্রী
প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ করা কোনও কঠিন কাজ নয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘এই ঘাটতি পূরণে আমরা ধারদেনা করবো। আমাদের ধারের বাজার ভালো। ধার পরিশোধের রেকর্ডও ভালো।’
শুক্রবার (৪ জুন) বিকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘাটতি পূরণে আমরা ধারদেনা করবো। আমাদের ধারের বাজার ভালো। ধার পরিশোধের রেকর্ডও ভালো। টাকা আনলে তা আমরা ঠিক সময়ে পরিশোধ করি বলেও সুনাম রয়েছে। আর সর্বোপরি এটি ভবিষ্যতের বিষয়। ভবিষ্যৎই বলে দেবে কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ হবে।’
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।’ কর ছাড়ের বিষয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, যদি আমরা রেভিনিউয়ের হার আস্তে আস্তে কমাই, তাহলে আমাদের কালেকশন বাড়বে। আমরা যে কর কমালামÍআমরা বিশ্বাস করি, ‘উই উইল বি উইনার’। করের হার কমানো হয়েছে, আশা করি আমাদের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়বে।’’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক সময় মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়। চাহিদা পূরণে ব্যবসায়ীদেরও পরিবর্তন আসে। তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও পরিবর্তন আসে। সুতরাং, এটা কখনও ফিক্সট রাখা যাবে না। আমাদের সিচুয়েশন কী ডিমান্ড করে, সারা বিশ্ব কী করছে, সেটি দেখতে হবে। উন্নত বিশ্ব যদি পিছিয়ে পড়ে, তাহলে আমরা কিন্তু এগোতে পারবো না। কারণ, উন্নত বিশ্বের মাধ্যমে কিন্তু আমরা সমৃদ্ধ। আজকে মার্কিন ইকোনমি এটাই আমাদের শেখায়, আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩ জুন) ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে এবারের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here