কলেজ ছাত্রীর প্রেম প্রথ্যাখানে যুবকের আত্মহত্যা

0
63

বেনাপোল প্রতিনিধি

ছলনাময়ী এক কলেজ ছাত্রীর প্রেম প্রত্যাখানে বেনাপোলের যুবক চট্রগ্রাম আত্মহত্যা করেছে। বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের জিহাদী হাসান (২৩) একই থানার সরবানহুদা গ্রামের সানজিদা হক মিমির সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে ওই যুবক চাকরীর সুবাদে চট্রগ্রাম থাকত। এরই মধ্যে মেয়েটি পড়াশুনার সুবাদে যশোর থাকায় একাধিক ছেলের সাথে প্রেম সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এ খবর জিহাদী জানতে পেরে চট্রগ্রাম তার আবাসনে রসি টানিয়ে ভিডিও কলে দেখায় সে যদি তার কথায় রাজি হয় তবে সে আত্মহত্যা করবে। মেয়েটি তার উত্তরে ছাপ বলে দেয় সে আত্মহত্যা করলে তার কিছু যায় আসে না। এরপর সে গলায় রসি দিয়ে ঝুলে পড়ে আত্মহত্যা করে প্রেমের জ্বালা মিটায়। তবে সে মিম নামে ওই মেয়েটির লেখা পড়ার খরচ চট্রগ্রাম থেকে যোগাত।

জিহাদীর ছোট ভাই মেহেদী হাসান বলেন, প্রায় দুই বছর তার ভাইয়ের সঙ্গে মিম এর সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কের জের ধরে তার মা ওই বাড়িতে যাতায়াতও করেছে এবং মিমকে তারা তার ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতেও ইচ্ছা প্রকাশ করে। তার ভাই জিহাদী চট্রগ্রাম একটি সিএন্ডএফে কর্মচারী হিসাবে চাকুরী করে। আর মিম যশোর লেখা পড়া করায় তাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বার্তাও হয়। এবং তার ভাই চট্রগ্রাম থেকে মিমকে লেখা পড়ার খরচও দেয়। সম্প্রতি জিহাদী জানতে পারে মিম আরো ছেলেদের সাথে প্রেম করে।

এ বিষয় নিয়ে সে মিম এর কাছে জানতে চায় তুমি আমাকে বল আমার সাথে বিয়ে করবে কি না , আর না করলে আমি আত্মহত্যা করব। যা রসি ঝুলিয়ে মিমকে দেখিয়ে ভিডিও কলে কথা হয়। মিম ওই রসি দেখেও তাকে না করে দেয় এবং আত্মহত্যা করলে তার কিছু যায় আসে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর জিহাদী গত বুধবার চিটাগাং ভাড়াটিয়া আবাসনে আত্মহত্যা করে।

সরেজমিনে সাদিপুর গেলে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, জিহাদী অত্যান্ত সরল সোজা ছেলে। সে ওই মেয়েকে ভালবাসত। এতে তার পরিবারেরও কোন আপত্তি ছিলা না। আর মেয়েটি প্রায় ২ বছর যাবৎ তার সাথে প্রেমের অভিনয় করে অর্থও হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের কাছে বিয়ে দিবে বলে দুই লাখ টাকা দাবিও করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

মিম এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে বলেন, তার সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে সিগারেট খাচ্ছে এমন কথা শুনে তাকে না বলা হয়েছে অভিমান করে । তার জন্য সে আত্মহত্যা করেছে। মিমি এর পিতা সেলিমুল হক বলেন, আমি মেয়ের সাথে সাদিপুর গ্রামের জিহাদী নামে একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে জানি। তবে তাদের সাথে বিয়ে দিতে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কেন কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে আমি জানিনা। তাদের নিকট বিয়ে দেওয়া বাবদ ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মিথ্যা কথা।

চট্রগ্রাম থেকে বেনাপোল সাদিপুর গ্রামে শুক্রবার সকাল ১০ টায় জিহাদীর মৃত্যু দেহ এসে পৌছালে এক হৃদয় বিদারক ঘটনার সুত্রপাত হয়। স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। বার বার জিহাদীর মা ও বাবা অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here