করোনাকালে প্রস্তাবিত এই বাজেট শোষণ লুণ্ঠন ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার দলিল : বাম ঐক্য ফ্রন্ট

0
32

করোনাকালে প্রস্তাবিত এই বাজেট শোষণ লুণ্ঠন ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার দলিল বলে উল্লেখ্য করেছেন বাম ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবন্দ।

বাম ঐক্য ফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমরেড নাসির উদ্দীন আহমেদ নাসু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর আহ্বায়ক সন্তোষ গুপ্ত, বাংলাদেশের সমাতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সরোওয়ার মুর্শেদ এবং কমিউনিস্ট ইউনিয়ন এর আহ্বায়ক ইমাম গাজ্জালী বলেন- করোনা মহামারিকালের প্রস্তাবিত এই বাজেট শোষণমূলক, লুণ্ঠনমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার দলিল। এই বাজেট শিক্ষা বান্ধব নয়, বরং দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ীদের খুশি করার বাজেট। শ্রমিক, কৃষক, স্বল্প আয়ের মানুষসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা এই বাজেটে উপেক্ষিত। শ্রমিকদের পক্ষে কোনো কথা নাই। সর্বোপরি এটা গরীব মারার বাজেট।

এই বাজেটে দুর্নীতি বন্ধ করে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার দিক নির্দেশনা নেই। জনবান্ধব পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিপরীতে গণবিরোধী পরিবেশবিরোধী লুটপাটের অপচয়ের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। বাজেটে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। কৃষি শিল্প পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সুরক্ষার কথা নাই। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধকালে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ কিভাবে বেচে থাকবে, তাদের খাদ্য আশ্রয়ের সংস্থান কিভাবে হবে তার কথা নাই।

নেতারা বলেন, ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি রেখে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, এই এক তৃতীয়াংশ ঘাটতি যোগাড় করতে হবে ঋণ করে। যা বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

ঢাক ঢোল পিটিয়ে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে। বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের জন্য। গেল অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪ শতাংশ ব্যয় বাড়ানোর কথাও বলা হলেও স্বাস্থ্যখাতের সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ করার কোনো দিক নির্দেশনা নেই। তাই এই খাতে, যতই টাকার অংক বাড়ানো হবে, ততই পাল্লা দিয়ে লুটপাট ও দুর্নীতিও বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসবে না। মহামারীর বাস্তবতায় স্বাস্থ্যের এই বরাদ্দ প্রত্যাশা কিংবা প্রয়োজন, কোনোটার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একই ভাবে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও গত ১৪ মাসে শিক্ষাখাতে মহামারীর যে প্রভাব পড়েছে, যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে টেনে তোলার কোনো পদক্ষেপ ও দিক নির্দেশনা নাই। বরং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব দিয়ে উচ্চ শিক্ষাকে সংকুচিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা অবিলম্বে ওই ভ্যাট প্রত্যাখ্যান করার দাবি জানাই।

আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, আমরা শিক্ষা খাত জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দাবি করি। আর অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে জিডিপির ২.৭৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।

নেতবৃন্দ এই বাজেট প্রত্যাখান করে, একটি গণমুখি বাজেট প্রণয়নের জন্য এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে উচ্ছেদের তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here