ঝিকরগাছায় পুকুর উচ্ছেদসহ অবৈধ বাঁওড় দখলদারদের থেকে অবমুক্তকরণ ইউএনও অফিসে অভিযোগ

0
29

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের বিষহরী গ্রামের পুকুর উচ্ছেদসহ অবৈধ বাঁওড় দখলদারদের থেকে অবমুক্তকরণ ইউএনও অফিসে এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দিয়েছে নজরুল ইসলাম নামের একব্যক্তি। তিনি ঐ গ্রামের মৃত. জুবান আলীর ছেলে।

অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ঝিকরগাছা উপজেলার ১নং গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের বিষহরী গ্রামের বিষহরী মৌতা নামে একটি বাঁওড় আছে। বাঁওড়ে মোট ৩২ একর জমির মধ্যে ১৬ একর জমি নিয়ে চারটি পুকুর খনন করে বিষহরী গ্রামের জয়নাল মন্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম খোকন। বিভিন্ন সমবায় সমিতির নামে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ চাষ করে আসছে। অবশিষ্ট ১৬ একর জমি অবৈধ ভাবে পুকুর বানিয়ে এলাকার প্রভাবশালী লোকজন মাছ চাষ করার কারণে গ্রামের পানি বাহিরে প্রবেশ করতে পারে না। এই অবস্থায় বর্ষাকালে বাঁওড়ের তীরে ব্যক্তিমালিকানাধীন হাজার হাজার একর রেকর্ডিং জমি পানির নীচে তলিয়ে যায় ও ফসলহানি হয়। যাদের উন্নতির জন্য বালিশ দেওয়া হয় তার আবাউট চাষ করে না তারা অলিখিতভাবে খোকনকে সাপ্লিজ দেয়।

লিজ দেওয়ার কারণে এলাকার অনেক মৎস্যজীবী লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছে এবং এ বছর পুকুর কাটার কারণে গ্রামের লোকজন পাট জাগ দেওয়ার অভাবে এলাকায় পাট চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। লিজ দেওয়ার কারণে ছোট জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামধারী চালক টাকাওয়ালা প্রভাবশালী লোকজন সদস্য। যারা আদ্দৌও মৎস্যজীবী না তাদের প্রচুর উপকার হচ্ছে। বৃহৎ জনগোষ্ঠী তথা এলাকার কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে আর বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার অসহায় প্রকৃত মৎস্যজীবী লোকজন। সমবায় সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এবং টাকা ও লাঠির জোর কোনোটাই নেই তাদের। বাইরে পুকুর থাকার কারণে লাভবান হচ্ছে নজরুল ইসলাম খোকনসহ এলাকার কিছু মুষ্টমেয় প্রভাবশালী লোক। ইতিপূর্বে সমস্যা উল্লেখ করে পুকুর উচ্ছেদ করার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করার জন্য চিঠি প্রেরণ করলে তা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য বলা হয়। কিন্তু অতিব দু:খের বিষয় সে তদন্ত এখনও আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে শর্ত ভঙ্গ করে জেলা মৎস্য অফিসারের সহযোগিতায় টাকা বরাদ্দ করে বাঁওড়ে পুকুর সংস্কারের নামে সরকারি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাঁওড়ের পাড়ের মাটি কাটায় গ্রামের গরিব মানুষের জমির ধান ও গাছপালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বিষহরী গ্রামের প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান এ কাজে সরাসরি জড়িত বিধায় কেউ প্রতিবাদেও সাহস পাইনি। অপরদিকে সংস্কারের নামে তছরুপ করা হচ্ছে সরকারি টাকা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের উপর তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here