জন্ম সনদ পেতে চরম ভোগান্তি শিকার জনগণ

0
38

এম এম নুর আলম, আশাশুনি

আশাশুনিতে নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষ। আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঝামেলার কারণে অনেকেই জন্ম সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না।

জানাগেছে, সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেকারণে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।

আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্ম নিবন্ধন করা যেত। গত পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করাতে গিয়ে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়, তারপর হবে সন্তানের জন্ম সনদ।

নতুন নিয়ম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল এবং তারপর থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্ম সনদ পেতে হলে আগে তার মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। আর ২০০১ সালের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই হবে। এ নিয়ম চালু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক।

অনেকেই জানান, মাসের পর মাস হেঁটেও জন্ম নিবন্ধন করতে পারছেন না তারা। একদিকে যেমন সরকারী বিভিন্ন নিয়ম মানতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের গাফিলাতির কারণে অভিভাবকদের মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদে হাঁটতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মা দুজনের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বাবা ও মায়েরটা যদি বাংলায় হয় তাহলে সন্তান বাংলায় একটা জন্ম নিবন্ধন পাবে। আর দুটোই ইংরেজিতে হলে জন্ম নিবন্ধন পাবে ইংরেজিতে। কিন্তু যদি দুজনেরটা আলাদা হয় তাহলে আবেদনই করতে পারবে না। দুজনেরটা এক ভাষায় করে নিতে হবে। এটা করলে সন্তান জন্ম নিবন্ধন নিতে পারবে। সরকারের উপবৃত্তি পেতে হলে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই বহু বাচ্চার বাবা-মা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে নিজেদের জন্ম সনদ না থাকায় বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন না করেই ফিরে আসতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যমতে, পাসপোর্ট করা, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সবার জন্ম সনদ প্রয়োজন। সবাই যেন জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আসেন সেই জন্য নিবন্ধনের আবেদনে কিছু বিষয় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শূন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে বলে।

অপরদিকে, ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন নিতে টিকার কার্ড-স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে, পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

আর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক।

যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, যদি জন্ম ২০০১ সালের আগে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যুসনদ ও বাধ্যতামূলক।

যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। উভয় সনদ তার ছেলে বা মেয়ের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী-অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক। এসব সত্য মানতে গ্রামের সহজ সরল অভিভাবকদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

অভিভাবকরা জানান, অনেক কষ্ট করে কাগজপত্র সব যোগাড় করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গেলেও সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের খামখেয়ালিপনা, বাজে ব্যবহার, কর্মে অনীহাসহ বিভিন্ন কারণে মাসের পর মাস হাঁটতে হচ্ছে তাদের।

কাজেই অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here