ফেনসিডিল এখন সোনার হরিণ॥ প্রতিপিছ ৪ হাজার টাকা

0
72

বেনাপোল প্রতিনিধি

ফেনসিডিলের সংকট দেখা দেয়ায় একটি ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ভারত থেকে সীমান্তে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় ফেনসিডিল আসছে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় নড়ে চড়ে বসেছে সীমান্তের ওই নিরাপত্তা কর্মীরা। যার ফলে চাহিদার তুলনায় সাপ্লাই কম হওয়ায় প্রতি পিছ ফেনসিডিল বেনাপোল এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়। যার দাম ছিল ইতিপুর্ব ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা।

বেনাপোল পোর্ট থানার বারোপোতা গ্রামের ফেনসিডিল স¤্রাট মোমিন মেম্বার। সম্প্রতি সে র‌্যাব ও পুলিশের কাছে দুই দফায় ফেনসিডিল সহ আটক হওয়ায় ভারত থেকে ফেনসিডিল আসছে কম। তবে মোমিন মেম্বার ইতিমধ্যে আবার জেল হাজত থেকে ছাড়া পেয়ে নাকি অল্প স্বল্প করে ভারত থেকে এনে ব্যবসা করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। এর আগে সে এলাকায় হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পুটখালী এলাকার ফেনসিডিল ব্যবসার বড় বড় রাঘব বোয়ালরা ঢাকা, যশোর, খুলনা সহ বিভিন্ন জায়গায় আটক হওয়ায় আগের মত বেশী না আসায় ক্রেতাদের চাহিদা পুরণ হচ্ছে না। বেনাপোল এর ভবারবেড় গ্রামে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয় ফেনসিডিল। এই গ্রামটাকে মাদকের হাটও বলা যায়। কথা হয় ক্রেতা সেজে ওই গ্রামের নারী ও পুরুষ ফেনসিডিল ব্যবসায়িদের সাথে। তারা জানায় একটি ফেনসিডিল ৪ হাজার টাকা।

যশোর খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন মোটরসাইকেলযোগে ইদানিং ফেনসিডিল সেবন করতে আসে পুটখালী গ্রামের জুয়েলের বাড়ি। জুয়েলের প্রতিবেশীরা অভিযোগ করে বলেন, সে একজন পাকা মাদক ব্যবসায়ি। ইজিবাইক চালানোর ছলে তার মুল ব্যবসা ফেনসিডিলের। জুয়েলের কাছে ফেনসিডিলের দাম জানতে চাইলে সু-চুতর ওই মাদক ব্যবসায়ি এড়িয়ে যায়। সে বলে আগে একটু আড্য করতাম। এখন ইজিবাইক চালাই এ ব্যবসা করি না।

দৌলতপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সীমান্তে দায়িত্বরত সরকারী নিরাপত্তার কর্মীদের প্রতি ১শ’ পিছে ডিউটি দিতে হয় ৫ হাজার টাকা। এছাড়া আরো অনেককে টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফেনসিডিল নিয়ে রিপোর্ট হওয়ায় সীমান্ত এলাকা একটু কড়াকড়ি। যার জন্য এর মুল্য কয়েকগুণ বৃদ্দি পেয়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যারা ফেনসিডিল আসক্ত তারা দুর দুরান্ত থেকে এসে সেবন করে চলে যায়।

ভবেরবেড় গ্রামের একজন নারী বলেন, একটি ফেনসিডিল ৪ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাও এখানে ব্যবসায়িরা ২ নাম্বারি করছে। এরা একটি ভেঙ্গে কয়েকটি করে এবং তার ভেতর অন্যান্য কাশি জাতীয় শ্রাব দিয়ে নকল তৈরি করে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রোকনুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ফেনসিডিল খুব কম ধরা পড়ছে। তবে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় গাঁজার চালান আটক করা হয়েছে। মাদকের সাথে কোন আপস নাই। যেখানে মাদক পাওয়া যাবে সেখানে মাদক সহ ব্যবসায়িকে আটক করা হবে। মাদক চোরাচালানি খ্যাত পুটখালী সীমান্ত এলাকা।

এব্যাপারে পুটখালী বিজিবি ক্যাম্পে কয়েকবার ফোন দিলেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here