শহর ঝুঁকিপূর্ণ, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

0
63

বেনাপোল প্রতিনিধি

করোনা ঠেকাতে শুধু মাস্ক পরাই যথেষ্ট নয়, মানতে হবে সামাজিক দুরত্বের বিধিও। কিন্তু এটা মানা হচ্ছে না; দেশের সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ ঝুকি পূর্ন শহর বন্দর নগরী বেনাপোলে। প্রতিদিন এই শহরে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ আর সামাজিক দুরত্বে বিধি মানছেন না।

এছাড়া ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীরাও মানছে না সামাজিক দুরুত্ব। আর ভারতীয় ট্রাক চালকরা তো স্বাধীন ভাবে করছে চলাচল। তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত ডাক্তার, ইমিগ্রেশন পুলিশ, থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন কিছুটা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা বিধি মানলেও তাদের নেই কোন পিপিই। এ নিয়ে শুরু হয়েছে অনেক জল্পনা কল্পনা আলোচনা সমালোচনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছয়ফুট দুরত্বের কথা বললেও সাধারন জনগন এক ফুটও মানছে না।

সম্প্রতি অফিস, দোকান, বাজার সবই খুলে গেছে। সেখানে লোকের পক্ষে সামাজিক দুরত্বের বিধি মানা হচ্ছে না। বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাওয়া গন পরিবহনে একটি সিটে একজন বসার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এদিকে ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের দেখ ভালের দায়িত্বে থাকাও ডাক্তার, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। তাদের কারো গায়ে পিপিই নাই। শুধু মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে প্রতিদিন পাসপোর্ট যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে পাসপোর্ট যাত্রী আসা শুরু করে। নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিধি মেনে তাদের সেবা দিতে হবে। কিন্তু দেখা যায় প্রতিদিন সকালে এসে এরা বেনাপোল ইমিগ্রেশনের পিছনে জড় হয়। যেখানে তাদের ৬ ফুট তো দুরের কথা মানা হয় না এক ফুট দুরত্বও। সরেজমিনে দেখা যায় তাদের দেখ ভালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের রুমেও এক সাথে ৬-৭ জন ঢুকে পড়ছে। তখন ছোট্র রুমটিতে ওই সব যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে দাঁড়াতে হয়।

এসব যাত্রীদের উন্নত সেবা ও সকল প্রশাসনের সতর্কতার সাথে কাজ করার জন্য গত ২৬ মে বেনাপোল স্থল বন্দরের সম্মেলন কক্ষে মত বিনিময় করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এনডিসি ইসমাইল হোসেন। ওই বৈঠকের আলোচনায় সব থেকে গুরুত্বপূর্নভাবে স্থান পায় ভারতীয় ট্রাক চালকরা অবাধে ঘোরা ফেরা করছে , তাদের নিয়ন্ত্রন করতে হবে। গত দুই দিনে দেখা গেছে আলোচনা পর্যন্ত সব শেষ। ভারতীয় ট্রাক চালকরা বাজার, চেকপোষ্ট, সহ বিভিন্ন দোকনপাটে আড্ডা দিচ্ছে সকল বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে। প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার চালক ও হেলপার দেশে প্রবেশ করে।

এছাড়া সম্প্রতি শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলীফ রেজা জানান, যাদের মাস্ক নেই তাদের জরিমানা করায় কিছুটা সতর্ক ছিল জনগন। আবার এ ব্যপারে তৎপরাতা শিথীল হওয়ায় অধিকাংশ স্থানীয় সাধারন মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না।

উল্লেখ্য গত ২৬ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত এ পথে ৩৯১৬ জন যাত্রী দেশে প্রবেশ করেছে কোলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতি পত্র নিয়ে। এদের মধ্যে ৩০ জনের মত করোনা পজিটিভ নিয়ে দেশে ফেরে। এরই মধ্যে বেনাপোল শহরে ১১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আর এমও ডাক্তার জাহিদ বলেন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্য আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালে পরীক্ষ করালে প্রতি ১০০ জনে ৪০ থেকে ৫০ জন এর দেহে করোনা পজিটিভ জীবানু পাওয়া যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here