টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান

0
57
টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা উপকূলে আকষ্মিক বন্যা থেকে রক্ষা পেতে অবিলম্বে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় এ দাবিতে শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর কাফনের কাপড় পরে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় স্থানীয়রা ‘আমরা ভাসতে চাই না, বাঁচতে চাই’, ‘একবারই মরব, বারবার নয়’, ‘জলবায়ু তহবিল কাদের জন্য? জবাব চাই’, ‘উপকূলের কান্না, শুনতে কি পান না’, ‘নিরাপদে বাঁচা, নয় কি আমার অধিকার’, ‘বাস্তুভিটা ছেড়ে, ভাসানচরে যাব না’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত পোস্টার নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ ছাড়া প্রতীকী লাশ হয়ে প্রতিবাদ জানান, উপকূলের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ, ইয়াসির আরাফাত, সালাউদ্দিন, মাহি ও সালাউদ্দিন জাফরী। উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটি আয়োজিত এই অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, মুহতারাম বিল্লাহ, মুতাসিম বিল্লাহ, হাসানুল বান্না প্রমূখ বক্তব্য দেন।

তারা বলেন, ১২ বছর ধরে উপকূলের মানুষ ভাসছে। প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে কর্তা-ব্যক্তিরা শুধু আশ্বাসের বুলি আওড়ান। নানা মেগা প্রকল্পের গল্প শোনান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে ব্যর্থ হলে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিন। আমরা বারবার নয়, একবারই মরতে চাই।

প্রসঙ্গত, সিডর, আইলা, ফনী, বুলবুল, আম্পান ও সবশেষ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে নদীর জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে শতাধিক গ্রাম। ভেসে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির মাছের ঘের। বিধ্বস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। এ ছাড়া ভেঙে পড়েছে উপকূলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় উপকূলের মানুষদের। ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে স্তুহারা হয়ে পড়েন তারা। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন উপকূলের মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here