ভারত থেকে ফিরে বাধ্যতামুলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও জীবানু বহন করে দেশে ফিরছেন নারী পুরুষেরা

0
37

মোকাদ্দেছুর রহমান রকি

সীমান্তে এপার ওপার আসা যাওয়ার ফলে সংক্রমন করোনা ভাইরাস ছাড়ানো আতংক বিরাজ করছে। সীমান্তবর্তী পুরোপুরি বন্ধ না করলে ভারতের ন্যায় দেশে কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রুপ নেওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ। সীমান্ত এলাকায় সীলড করে ভারত থেকে করোনা ভাইরাস বহন করে ও মালামাল আসার ফলে করোনা ভাইরাস ভারতে ন্যায় ভেরিয়েন্ট হওয়ার সম্ভবনা থেকে যাচ্ছে। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর থেকে ৩৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বেনাপোল স্থল বন্দর।

গত ২৬ এপ্রিল এই বন্দর দিয়ে চলাচলে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় প্রশাসন দিলেও এই বন্দর দিয়ে বেশীর ভাগই ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরছেন। কেউবা ফিরছেন করোনা ভাইরাসের জীবানু নিয়ে। আবার কেউ দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থেকেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারত ফেরতদের জন্য বাধ্যতামুলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ার্ন্টোইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যশোর জেলা সহ এর আশে পাশের জেলা গুলিতে। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কোন কারন নেই বলে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকার কারণে এই রোগ বেশী বিস্তার লাভ করতে পারেনি এ জেলায়। তবে দৈনিক সংক্রমের হার প্রায় ২০%। ঈদের আগে বা পরে একই রকম আছে এই জেলার করোনা পরিস্থিতি। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার প্রচারনা সহ মাস্ক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। মাস্ক ব্যবহার না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানাও করা হয়েছে অসচেতন জনগনকে। কয়েকজনের শরীরেও ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পাওয়া গেলেও তা অতি ভয়ঙ্কর ভেরিয়েন্ট নয়।

এছাড়া ব্লাক ফাঙ্গাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোন কিছু তারা জানতে পারেননি। অপর দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহীনের কাছে তার মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশের বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকা সিলড করেছে জেলা প্রশাসন। সিলড করা করা থাকলেও ভারত থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এদেশের মানুষেরা দেশে ঢুকলে ও ভারতীয় বিভিন্ন পন্যা সামগ্রী কাস্টমস এর মাধ্যমে দেশে আসলে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোন সুযোগ আছে কিনা।

তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ভারত থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যারা এদেশে আসছে তাদেরকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে স্ক্রিনীং কার্যক্রম করে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তার পর তাদের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে তাদের গন্তব্যে ছাড়পত্রের মাধ্যমে যাওয়ার সনদ দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। ভারত থেকে মালামাল আসার ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস আসার তেমন সম্ভনা তিনি দেখছেন বলে জানান।
ভেরিয়েন্টের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ভারতে বি ওয়ান সিক্স সেভেন ১.২ বেশী ছড়াচ্ছে। ভেরিয়েন্টে রোগীদের পরীক্ষার জন্য যশোরে কোন ব্যবস্থা নেই। তবে এ ব্যাপারে দেশের আইডিসিআর বলতে পারবেন। ভেরিয়েন্ট পরীক্ষা করা হয় বিভিন্ন উন্নত ল্যাবে যা দেশের আইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলতে পারবেন কোথায় পরীক্ষা করা হয় বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকরা ব্লাক ফাঙ্গাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন নির্দেশনা তাদেরকে দেয়া হয়নি। তারা কিছুই জানেন না। এ যাবত সীমান্ত এলাকা সিলড করার পর ভারত থেকে কতজন দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ তথ্য জেলা প্রশাসনের এনডিসি মহোদয় সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ভারত থেকে দেশের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ফিরেছেন ৩ হাজার ৬১৩ জন, যশোর কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত নারী পুরুষেরা ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৪৩ জন এর মধ্যে সংক্রমন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯ জন। এর মধ্যে ৩১জন ভারত থেকে পজিটিভ নিয়ে দেশে ও ৮জন পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here