বেনাপোলে আমদানিকৃত ওয়াগন থেকে পণ্য চুরি॥ তিন চোর আটক

0
87

বেনাপোল প্রতিনিধি
ভারত থেকে বেনাপোলে আসা আমদানী পণ্য ওয়াগন থেকে চুরি থেমে নেই। প্রতিনিয়ত ওয়াগন থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের সহযোগিতায় চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব চুরি যাওয়া পণ্য অথবা চোররা আটক না হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যে রয়েছে রেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত জিআরপি পুলিশ ও রেল নিরাপত্তা বাহিনী (আর এন বি) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাত্রে জিআরপি গোয়েন্দা শাখার পুলিশ বেনাপোল রেল ষ্টেশনে চুরি করতে আসা তিনজন চোরকে ধরে থানায় হস্তান্তর করেছে।
আটককৃত চোররা হলো ভবেরবেড় গ্রামের শামছুর রহমান এর ছেলে আবুল বাশার ও সুমন একই গ্রামের আবুল কালাম এর ছেলে আলমগীর হোসেন।
দেশের আমদানী বানিজ্য প্রসারিত এবং খরচ কম এর জন্য আমদানি কারকরা রেল ওয়াগনে পণ্য আনে। এর মধ্যে চাল, ডাল, জিরা, আদা, গরমমসলা সহ ভারতীয় সকল ধরনের যন্ত্রাংশ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। রেল ষ্টেশন এলাকা ঘিরে রয়েছে একটি চোর সিন্ডিকেট। তারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যেমে এসব পণ্য চুরি করে নিয়ে যায়। আর ক্ষতিগ্রস্থ হয় আমদানি কারকরা।
স্থানীয় কয়েকজন ওই চোরসিন্ডিকেট এর ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরএনবি সদস্যরা এসব চুরির সাথে জড়িত। বিশেষ করে এ এসআই বদর উদ্দিন এর সাথে সম্পৃক্ত। তার সাথে ওই চোর সিন্ডিকেটের রাঘব বোয়ালদের একান্তে আলাপ করতে দেখা যায়। এর আগে গত ৩ মে তিনজন চোর চাউল চুরির সময় রেল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে থাকা সত্বেও ওই চোরদের আটক করে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের আনছার সদস্যরা। আটককৃত ওই চোররা হলো বেনাপোল ভবারবেড় গ্রামের ইমারুল হক এর ছেলে নয়ন হোসেন (২৬) একই গ্রামের আমিনুর রহমান এর ছেলে ইয়ামিন (২৩) আব্দুর রশিদ ছেলে সিহাব হোসেন (২৪)।
এ ব্যাপারে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর এ এসআই বদর উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লোক বল কম। এখানে পর্যপ্ত সিকিউরিটি নেই। তার জন্য কিছু ছিচকে চোর রেল থেকে মাঝে মধ্যে পণ্য চুরি করে। আমরাও গত ফেব্রুয়ারী মাসে মোট ৫ জনকে বিভিন্ন মালামাল সহ আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি। আপনার সদস্যরা এসব চোরদের সাথে সহযোগিতা করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাতের পঁচাটি আঙ্গুল সমান না। কেউ থাকলেও এখনও কারো বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায়নি। এরকম অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখানকার অবকাঠামো গত উন্নয়ন বেশী প্রয়োজন। আর রেল ষ্টেশন এর আশে পাশে কিছু চোর আছে তারাই সুযোগ বুঝে এসব পণ্য চুরি করতে আসে।
বেনাপোল রেল ষ্টেশনের দায়িত্বে থাকা জিআরপি পুলিশের এস আই কামাল উদ্দিন বলেন, এসব আমদানিকৃত পণ্যবাহি রেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে রেল নিরাপত্তা বাহিনী। আমাদের দায়িত্ব রেল এক স্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়ার। তবে এসব চুরির ঘটনায় আমাদের জিআরপি গোয়েন্দা (ডিবি) গতকাল খুলনা থেকে এসে তিনজন চোরকে আটক করেছে। চোরদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনা জিআরপি পুলিশের ওসি বেনাপোলে দায়িত্বে থাকা ফয়জুল ইসলাম এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মিনিট পর আপনাদের সাথে আলাপ করব। এরপর তিনি ওই কক্ষ থেকে বাইরে যেয়ে আর দেখা করেন নাই।
বেনাপোল পোর্ট থানার দায়িত্বরত এএসআই চম্পা খাতুন বলেন, তিনজনকে রেলের জিআরপি পুলিশ চুরির অভিযোগে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here