যবিপ্রবির ল্যাবে আরও ৩ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরণ সনাক্ত

0
58

সত্যপাঠ রিপোর্ট
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ৩ জন রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরমধ্যে দুজনের নমুনা গত ১২ মে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে এবং অপরজনের নমুনা ১৬ মে নড়াইল থেকে যবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়।
যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে মঙ্গলবার সকালে সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক সিকুয়েন্সির মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় এ ধরণ শনাক্ত করেন। গবেষণাটি সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। ইতিমধ্যে ভারতীয় ধরণ শনাক্তের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, যশোর ও নড়াইলের স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
জিনোম সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। দুজন পুরুষের মধ্যে একজনের বয়স ৬১ এবং অপরজনের বয়স ৩৭ বছর। আর নারী রোগীর বয়স ২৭ বছর। তাদের সকলেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
যবিপ্রবির গবেষক দলটি জানান, B1.617.2 নামের ধরণটি জিনোম সেন্টারে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৮ মে যবিপ্রবির ল্যাবে সর্বপ্রথম ২ জন করোনা রোগীর নমুনায় ভারতীয় এ ধরণ শনাক্ত করা হয়। এ ধরণটি ইতোমধ্যে বিশে^র ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরণটিসহ সকল ভারতীয় ধরণকে উদ্বেগের ধরণ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় ধরণগুলো নেপালেও ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষক দলটি ভারত থেকে আগত সবাইকে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়া সাপেক্ষে সঙ্গনিরোধে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভারত ফেরত কোনো রোগীর করোনা পজিটিভ হলে জিনোম সিকুয়েন্সের মাধ্যমে ধরণটি শনাক্ত আবশ্যিক বলে মনে করে গবেষক দলটি। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হওয়ায় সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো কারণে চালক ও সহকারীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন বলে অভিমত তাঁদের।
গবেষক দলটি জানিয়েছে, ভারতীয় এ ধরণটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমনের সক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন পরবর্তী ‘সেরাম এবং মনোকোনাল অ্যান্টিবডি’ এ ধরণকে কম শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে। সুতরাং মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অতিদ্রুত সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
জিনোম সেন্টারে ভারতীয় ধরণ শনাক্তকরণের গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- ড. তানভীর ইসলাম, ড. হাসান মোহাম্মদ আল-ইমরান, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, শোভন লাল সরকার, এ. এস. এম. রুবাইয়াত-উল-আলম, সাজিদ হাসান, আলী আহসান সেতু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here