মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক ভাষণ

0
48

আজাদ খান ভাসানী
১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী মাদরাসা ময়দানে ফারাক্কা লংমার্চ উপলক্ষে শতাব্দীর গণমানুষের আন্দোলন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নেতা মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দান করেন। বেলা ১০.৩০ মিনিটে বক্তব্য প্রদানের জন্য মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী উঠে দাঁড়ালেন। লাখো মানুষের কোলাহলমুখর মাদরাসা ময়দান মুহূর্তের মধ্যেই পিন-পতন নিস্তব্ধতা নেমে এলো। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা দিয়ে শুরুতে স্মৃতিচারণ করলেন খেলাফত আন্দোলনে মওলানা মোহাম্মদ আলী, মওলানা শওকত আলীর সম্পর্কের কথা। স্মৃতিচারণ করলেন করম চাদ গান্ধী, প-িত জওয়াহের লাল নেহরু, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কথা। শ্রদ্ধা জানালেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি।
অশীতিপর বৃদ্ধ জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী যখন বক্তৃতা করছিলেন মনে হচ্ছিল রাজশাহীর মাটি থর থর করে কাঁপছে। মাঠের আশেপাশে তিল ধারণের ঠাঁই নাই। জনতার মধ্য থেকে হাজার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল লও লও লও সালাম, মওলানা ভাসানী। ধ্বনিত হচ্ছিল সিকিম নয়, ভুটান নয়, এদেশ মোদের বাংলাদেশ। মাওলানা ভাসানী অনেক কথাই বললেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আধিপত্যবাদীরা বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ পানি, গ্যাস, লুণ্ঠন করে নিয়ে যেতে চায়, তারা বাংলাদেশে নতুন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোড়া পত্তন করতে চায়। তারা সিকিম ভুটানের মতন, বাংলাদেশকে মর্যাদাহীন সার্বভৌমত্বহীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তারা বাংলার মানুষকে প্রতারিত করার জন্য নব্য মীর জাফর আলী খান, সেনদুপ দরজী সৃষ্টি করতে চায়।
তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির এই সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হলে জনতার গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি তরুণ ছাত্র-জনতাকে স্বার্ভভৌমত্ব নিরাপদ রাখার জন্য মীরজাফর আলী খান, সেনদুপ দর্জী, ঘষেটি বেগমদের সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। ১১.১০ মিনিটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে শুরু হয় ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিল। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী একটি খোলা জীপে চড়ে জনতার গণমিছিলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩২ মাইল পথ লাখ লাখ মানুষ পায়ে হেঁটে চলছে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে। রাস্তার দুই ধারে বৃদ্ধ, নারী শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ এসেছে পানি, মুড়ি, চিঁড়া, কাঁচা আম দিয়ে মিছিলকারীদের সহানুভূতি জানাতে। সে এক অপরূপ দৃশ্য। দূর থেকে এই আত্মিক জাগরণ বুঝা যায় না। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে উপস্থিত হলেন। সন্ধ্যা ৭টায় ফারাক্কা লংমার্চে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে বের হলো ঐতিহাসিক মশাল মিছিল। সকল ছাত্র সংগঠনের নেতারাই সেই মশাল মিছিলে অংশ নিলেন। মশাল মিছিলের শ্লোগান ছিলো- ফারাক্কা তোড় দেংগা, নেতিজা জোবি হোগা। পরদিন সকাল ৮টার দিকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে মিছিল শুরু হলো, নদীর উপরে নৌকা দিয়ে পোলের মতন করে দেয়া হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফারাক্কা পাদদেশ-সোনামসজিদ পর্যন্ত ১৫ মাইল পথে। শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে আসরের নামাজ আদায় করলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ঐতিহাসিক সোনা মসজিদে নামাজের পরে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করলেন।
-উইকিপিডিয়া থেকে সম্পাদিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here