ঈদের দিনেও গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় নিহত ১৯

0
22

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। মুসলিমদের উৎসবের এই দিনটিতেও হামলা বন্ধ রাখেনি ইসরায়েলি বাহিনী।
উল্টো ঈদের দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলায় গাজায় আরও ১৯ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ মে থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন শিশু। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪৮০ জন ফিলিস্তিনি। খবর আল-জাজিরার।


অপরদিকে, ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ইসরায়েল অভিমুখে রকেট হামলায় এ পর্যন্ত ৭ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয় নারী ও ইসরায়েলি এক সেনা রয়েছেন। আর হামাসের হামলায় শতাধিক ইসরায়েলি আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের দিনেও বিমান হামলা চালিয়ে গাজার বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, বুধবার গভীর রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে গাজার নিকটবর্তী ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে কয়েকশ রকেট নিক্ষেপ করেছে হামাস। তারা পশ্চিম তীরে আরও সেনা মোতায়েন করেছে। সেখানে সেনা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্র সামগ্রীর সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে।


এদিকে কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদা দাবি করেছেন, হামাসের সশস্ত্র শাখা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ইলান অ্যান্ড আসাফ রামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রকেট নিক্ষেপে সক্ষম হয়েছে।
আল-জাজিরাকে তিনি জানিয়েছেন, গাজা থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইলান অ্যান্ড আসাফ রামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ‘আয়াশ-২৫০’ রকেট নিক্ষেপ করেছেন তারা।


১৯৯৬ সালে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে নিহত কামেস বিগ্রেডের কমান্ডার ইয়াহইয়া আয়াশের নামে রকেটটির নামকরণ করা হয়। এটি ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তবে রামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রকেট হামলা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি ইসরায়েল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধনামন্ত্রী বরিস জনসন অবিলম্বে দুই পক্ষকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে রাশিয়া ও মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন। তারা গাজায় ইসরায়েলির রক্তাক্ত হামলা বন্ধে দ্রুত বিশ্ব সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।


গত ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে গাজা উপত্যকায় সিরিজ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। হামলার প্রথম দিনে তিন শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়। দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে ২৮ এবং তৃতীয় দিনে ৬৫ জনে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রমজান মাসের শেষ সপ্তাহজুড়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এবং শেখ জাররাহ এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়।
পবিত্র রমজানের জুমাতুল বিদা এবং পবিত্র রাত শবে কদরেও আল-আকসায় তা-ব চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা এর প্রতিবাদ করে আসছেন। এর মধ্যেই গত সোমবার প্রতিশোধ হিসেবে হামাস ইসরায়েলে দিকে রকেট হামলা চালায়। তারপর থেকে অব্যাহত বিমান হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।


এর আগে সোমবার ভোররাত থেকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর তা-ব চালায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়। এসময় ফিলিস্তিনিদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনারা।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে জেরুজালেম, গাজা ও আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ইসরায়েলকে থামাতে এবং ‘পাল্টা শিক্ষা’ দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here