বাল্য বিবাহসহ ঘটছে অপরাধ কর্মকান্ড, ইউপি উদ্যোক্তা ভূয়া জন্ম সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা

0
21

কপিলমুনি প্রতিনিধি
পাইকগাছার কপিলমুনি ইউপি ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ভূয়া জন্ম সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। জাল জন্ম সনদ বাল্য বিবাহসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার হচ্ছে। কপিলমুনি ইউপি উদ্যোক্তা মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দপ্তরসহ সাংবাদিকদের নিকট দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ পরিষদ কেন্দ্রীক বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
জানাযায়, উপজেলার কপিলমুনি ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাল্য বিবাহ বিষয়ে নকল জন্মসনদ প্রদান করে আসছেন। সেক্ষেত্রে পাত্রী পক্ষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এমতাবস্থায় অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে নাবালিকাদের। যেখানে বাল্যবিবাহ রোধকল্পে কঠোর অবস্থানে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অথচ এমন ইউপি উদ্যোক্তাদের কারনে সরকারের মহৎ উদ্যোগ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতনমহল।
নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে এক অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার কপিলমুনি ইউপি বিরাশী গ্রামে মিটুল গাজী কণ্যা তাছলিমা খাতুন এর জন্মসনদ যার নিবন্ধন বই নং-১৩। নিবন্ধন নং ২০০১৪৭১৬৪৫০০৪৮৪০২ এবং ইস্যুর তারিখ ০৮ জুলাই ২০১৯ প্রদান করা হয়। সনদটি যাচাই করার পর ভূয়া বলে প্রমাণীত হয়। তাছলিমা নামের ওই মেয়ের বিবাহ ঠিক হওয়ার পর বয়সের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য তার নামে ভূয়া জন্মসনদটি তৈরী করেন ইউপি উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন উক্ত সনদটি ইউনিয়নের প্রতাপকাটি গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র ওয়ালিদ গাজীর নামে ইস্যু করা রয়েছে। ইউপি ৮নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ মো. ইসলাম গাজীর সহায়তায় ইউডিসি’র উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে সনদটি সংগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, নকল এ সনদটিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসানো হয়। এমনিভাবে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সম্প্রতি তার এহেন অর্থবাণিজ্যে আর নানা অনিয়মের বিষয় একে একে প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে এক ব্যাক্তির জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে একাধিক জন্মনিবন্ধন তৈরী করার। এছাড়া প্রভাব খাঁটিয়ে ইউপি অধিনে ৪০দিনের কর্মসূচির কাজে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করে টাকা তোলেন। নিজে ভিজিএফ কার্ডের অধিনে ১০ টাকার চাল প্রাপ্তিরও সুবিধা ভোগ করেন। পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের অধিনে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা নিয়োগে কথা থাকলেও নিজের স্ত্রীকে মহিলা পদে নিয়োগে সেখানে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম ডিজিটাল সেন্টারে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ইউপি সচিব আ. গণি গাজী জানান, চেয়ারম্যান ও আমার স্বাক্ষর স্ক্যান করে বিভিন্ন অনিয় ও দুনীতি করে আসছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, তার অনিয়মের বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি। তার এহেন কর্মকান্ড নিয়ে পরিষদ বিব্রত। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক হয়েছি এবং বিষয়টি স্যারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here