দেশের প্রথম ডিজিটাল কাস্টম হাউস বেনাপোল

0
21

সত্যপাঠ ডেস্ক
আমদানি-রফতানি বাণিজ্য গতিশীল, রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও শুল্কায়নে স্বচ্ছতা আনতে বাংলাদেশ কাস্টমস অফিস ম্যানেজমেন্ট (বিকম) নামে একটি নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বেনাপোল দেশের একমাত্র ডিজিটাল কাস্টম হাউসে উন্নীত হলো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদনক্রমে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে সময় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ সম্ভব হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক ও পণ্যের তথ্য সংগ্রহ করতে জিরো পয়েন্টে ইতোপূর্বে কার্গো শাখায় কাস্টম, বন্দর ও বিজিবি যৌথভাবে এন্ট্রি করত। ফলে একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে সময় লাগতো ৩০ মিনিট। বর্তমানে ‘বিকম’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বারকোড ব্যবহার করায় সময় লাগছে মাত্র ৫ মিনিট।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয় ভারত থেকে। ভারতীয় এসব ট্রাকের অবস্থান ও কোন শেডে পণ্য আনলোড হচ্ছে তা মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে বিকমের মাধ্যমে।
আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিশ্লেষণ ও দ্রুত সম্ভব হয়। দেশের যেকোনো স্থানে অবস্থান করেও আমাদনি-রফতানি পণ্যবাহী ট্রাকের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ণয় করা যাচ্ছে। এছাড়া মুহূর্তেই জানা যাচ্ছে বকেয়া রাজস্ব, ব্যাংক গ্যারান্টি, আন্ডারটেকিং ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সের সব তথ্য একযোগে যেকোনো অফিসার জানতে পারছেন।
বেনাপোল কমিশনার আজিজুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. নেয়ামুল ইসলামের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে এই প্রথম কাস্টম হাউসে বিকম সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য ডিটেক্ট করা দ্রুত সম্ভব হয় এবং বন্দরের গুদামে সংরক্ষিত বাজেয়াপ্ত মালামালের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতি করা সম্ভব নয় বলে এটি অত্যন্ত নিরাপদ একটি সফটওয়্যার।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুবাদে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বল্প খরচে নিজস্ব উদ্ভাবনীতে টিমের সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করি ২০২০ শেষ ভাগে। ওই বছরের ২১ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টম হাউস কমিশনার কর্তৃক আমাকে দলনেতা করে আইসিটি টিম গঠন করেন। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন- উপ কমিশনার এসএম শামীমুর রহমান, সহকারী কমিশনার এইচ এম আহসানুল কবীর, প্রোগ্রামার আকতারুজ্জামান, সহকারী প্রোগ্রামার নাজমুল ইসলাম, ও রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম রবিউজ্জামান।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই বছর বিজয় দিবসে বেনাপোল কাস্টম হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে সফটওয়্যারটির যাত্রা শুরু হয়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আহ্বায়ক, ইনোভেশন টিম এনবিআরের নিকট চিঠির মাধ্যমে উদ্ভাবনের সংবাদ জানানো হয় এবং উপস্থাপনের সুযোগ চাওয়া হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইনোভেশন টিম এনবিআরের সম্মুখে সফটওয়্যারটি উপস্থাপন করা হয়। ইনোভেশন টিম উদ্ভাবনী সফটওয়্যারটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here