কেশবপুরে কুড়িয়া পাওয়া বোমায় নিহতের ঘটনায় আরো দু’জন গ্রেফতার

0
27

বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া বোমা বিস্ফোরণে স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান নিহতের মামলায় আরো দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন, বাউশালা গ্রামের নফর আলী মোড়লের ছেলে শাহিনুর রহমান শাহীন ও একই গ্রামের এরেদ আলী গাজীর ছেলে শামীম গাজী। গত রোববার রাতে তাদের আটকের পর সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সাথে আটক শামীম গাজী আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান একজনের জবানবন্দি গ্রহন করেন। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরআগে একই মামলায় যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেনকে আটক করে তাকে রিমান্ডে নেয়। পরে আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
জবানবন্দিতে শামীম গাজি জানান, গত ২৮ মার্চ কেশবপুরে নির্বাচন ছিলো। তার আগেরদিন রাতে যুবলীগ নেতা ফারুক সহ আরো চারপাচজন মোটরসাইকেলে করে কেশবপুরে যাচ্ছিলেন। তাদের হাতে একটি ব্যাগ ছিলো। ওই ব্যাগে ৬টা বোমা ছিলো। সেসময় শামীম ও তাদের বহরে ছিলো। যাবার পথে পুলিশের কথা শুনে তারা একটি বিলের মধ্যে যায়। ওই ব্যাগ খুলে বোমা বের করে। এসময় শামীম ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর থেকে শামীম আর ফারুকদের সাথে মেলা মেশা বাদ দিয়ে দেয়। পরে জানতে পারে এ ঘটনা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দাকাটি ইউনিয়নের কাউশালা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান তার ছোট বোন মারুফাকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশে বিলের মধ্যে খেলা করতে যায়। বিলের মধ্যে পরিত্যাক্ত একটি টোং ঘরের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো একটি কৌটা পেয়ে তারা হাতে করে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে মসজিদের কাছে আসার পরে তার মা নিলুফা বেগমকে কৌটাটি দেখানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহমান মারা যায়। একই সাথে গুরুতর আহত হন তার মা নিলুফা বেগম ও বোন মারুফা খাতুন। সাথে সাথে তাদের দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এই ঘটনায় নিহত আব্দুর রহমানের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করেন। পুলিশ সন্দেহমূলক বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হোসেনকে আটক করে। পরে এই দুই আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিখন কুমার সরকার বলেন, একজন জবানবন্দি দিয়েছেন। তারকাছথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। অপরজনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here