কপিলমুনিতে আশ্রয়ন ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মহিলা আ.লীগ নেত্রী বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতে অভিযোগ

0
31

কপিলমুনি প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি চরভরাটির খাস জমি, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণাপূর্বক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন মহিলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ হয়েছে।
খাস জমি, ঘর কিংবা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে সেসব পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে অভিযুক্ত রেশমা আক্তার উল্টো তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাদের স্বাক্ষর জাল করে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও হলুদ কার্টিস পেপারে নানা তঞ্চকি চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতারিতরা।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেশমা আক্তার ও তার স্বামী স্থানীয় নাছিরপুর গ্রামের জামাল উদ্দীন মোড়ল নিজেদের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সরকারি খাস জমি, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ দিন যাবৎ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়ে প্রতারিতরা তাদের কাছে প্রাপ্ত টাকা চাইলে তারা বিভিন্ন সময় নানা টালবাহানা শুরু করেন।
এমনকি বেশি চাপা-চাপি করলে উল্টো তাদেরকে নানাবিধ হুমকি-ধামকি এমনকি মিথ্যা মামলায় জেল-হাজত খাটানোরও হুমকি দেন তারা। একপর্যায়ে প্রতারিতদের ৪ জন কপিলমুনির হাউলি গ্রামের দেবাশীষ মন্ডলের স্ত্রী মঙ্গলী মন্ডল, কাশিমনগরের নুর আলী সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুফিয়া বেগম, প্রতাপকাটি গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দীন গাজীর স্ত্রী নাছিমা বেগম, নাছিরপুরের কালীপদ বিশ্বাসের স্ত্রী স্বরসতী বিশ্বাস তাদের কাছ থেকে রেশমা দম্পতি বিভিন্ন সময় যথাক্রমে ৮৩ হাজার টাকা, ২০ হাজার, ১৪ হাজার ও ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করছেন। তাদের কাছে প্রাপ্ত টাকা চাইতে গেলে তারা তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ এমনকি মিথ্যা মামলায় হয়রাণির হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগে আরো জানানো হয়, রেশমা আক্তারের স্বামী নাছিরপুর গ্রামের আজিজ মোড়লের ছেলে জামাল উদ্দীন মোড়ল প্রতাপকাটির মৃত নাজিম উদ্দীন গাজীর স্ত্রী নাছিমা বেগমের নিকট পাইকগাছা সহকারী জজ আদালতের অ্যাড. মোহতাছিম বিলাহর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। যাতে উলেখ করেন যে, নাছিমা বেগম নগদ টাকার প্রয়োজনে জামালের নিকট থেকে গত ১৩ জুলাই ২০’ তারিখে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণে ১০ শতক জমি বিক্রি করতে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।
এছাড়া গত ১২ নভেম্বর ২০’ তারিখের মধ্যে পণমূল্যের টাকা ফেরত না দিলে কবলা দলিলপূর্বক জমির দখল বুঝিয়ে দিবেন বলেও উল্লেখ থাকে। রেশমা বেগম অনুরূপ উপজেরার প্রতাপকাটি গ্রামের বেদাশীষ মন্ডলের স্ত্রী মঙ্গলী মন্ডলের নামে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানে। উল্লেখ করেন মঙ্গলী মন্ডল ধার সরূপ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
প্রকৃত পক্ষে নাছিমা ও মঙ্গলী তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেওয়া তো দূরের কথা। উপরন্তু রেশমা তাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি ১০ শতক জমির পর্চা, আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবিসহ ১৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে সরকারি ঘর তো দূরের কথা, তার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে নানাবিধ মামলায় হয়রাণির হুমকি ও সর্বশেষ মিথ্যা বর্ণনায় ঐ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এর আগে পাওনা টাকা আদায়ে তারা স্থানীয় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, থানাসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তার দফতরে একটি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস বলেন, দলের কেউ অপরাধ করলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। দল তার দাযভার বহণ করবেনা। তবে সে যদি প্রকৃতপক্ষে দোষী হন তাহলে তার শাস্তি কামনা করেন তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত রেশমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাছিমা বেগমের কাছে তিনি জমি ক্রয় বাবাদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও মঙ্গলী নিকট ৮০ হাজার টাকা পাবেন। তারা জমিও দিচ্ছেন না। আবার টাকাও ফেরৎ দিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here