যশোর সদর হাসপাতালের লাশ কাটা ঘরের সেই মৃত কর্মী গোবিন্দ দাসের বাড়ি ছিল শালিখার আড়ুয়াকান্দিতেই

0
71

শালিখা প্রতিনিধি
যশোর সদর হাসপাতালের লাশ কাটা ঘরের সেই মৃত কর্মী গোবিন্দ দাসের(৬৫) বাড়ি ছিল শালিখার আড়ুয়াকান্দিতেই। দির্ঘদিন তিনি লিভার জনিত রোগে ভোগার পর গত ১৭ এপ্রিল শনিবার দুপুরে গুরুতর অসুস্থ হলে স্বজনরা তাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিলে চিকিৎসক আব্দুর রশিদ তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরিফ আহম্মেদ জানান গোবিন্দ দাস দির্ঘ ৩৭ বছর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। প্রথমে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী হিসাবে ঝাঁড়–দারের কাজ করলেও পরে তাকে মর্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মর্গের দায়িত্ব পালনকালে তিনি লিভার জনিত রোগে আক্রান্ত হন। এক পর্যায়ে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে তার লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত দু‘বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়িতে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত ১৭ এপ্রিল শনিবার তার মৃত্যুর পর সন্ধ্যায় শহরের নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে তার দাহ সম্পন্ন হয়। গোবিন্দ দাস হাসপাতালের মর্গে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে লাশ কাঁটা ও সেলাইয়ের কাজ করতেন। তার কর্ম জীবনে গোবিন্দ দাস প্রায় ২০ হাজারেরও বেশী লাশ কেটেছেন বলে তার ছেলে লক্ষ্মণ জানান। তার মৃত্যুর পর সে এক ছেলেও তিন মেয়ের জনক ছিলেন বলে এক ভুল তথ্য প্রকাশ হয়। আসলে তার মৃত্যুর পর সে দুই স্ত্রী দুই ছেলেও তিন মেয়ে রেখে গেছেন বলে জানা যায়।
আসলে গোবিন্দ দাসের বাড়ি ছিল শালিখার আড়–য়াকান্দিতেই। দুল্লপ দাসের ছেলে গোবিন্দ দাস প্রথম বিয়ে করেন কালীগঞ্জ উপজেলার কালারবাজারের সুরেন দাসের মেয়ে কেসপতি রানীকে। তার ১ম স্ত্রী কেসপতি রানী ও বড় ছেলে নৃপেন কুমারকে শালিখার আড়ুয়াকান্দিতে রেখে যশোর আরিফপুর মাঠ পাড়ার শিবু দাসের (গোসাই) মেয়ে কল্যাণী দাসকে ২য় স্ত্রী রুপে বিয়ে করেন। সেখানে লক্ষ্মণ কুমার, পল্লবী রানী, সল্ল রানী ও পুতুল রানী নামের ৪ সন্তানের জনক হন। গোবিন্দ দাস সদর হাসপাতালের কোয়ার্টারেই থাকতেন। মৃত গোবিন্দ দাসের উত্তরাধিকারীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শালিখার শতখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ঝন্টু ও ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আঃ ওহাব মোল্যা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here