করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেনাপোলের জনপদে বিপর্যয়ের কালো ছায়া

0
76

বেনাপোল প্রতিনিধি
করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করতে দেশ জুড়ে গত বছরের ন্যায় এবারও গত ৫ এপ্রিল থেকে একটানা লকডাউন চলছে। একমাস অতিবাহিত হওয়ার পর বিধি নিশেধ ১৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ঈদ এর এক সপ্তাহ আগ থেকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পরিবহন চলাচলের ওপর বিধি নিশেধ শিথিল করার যে সম্ভাবনা রয়েছে সে ব্যাপারেও আশা ব্যঞ্জক সুসংবাদ এর ইঙ্গিত মিলছে না।

এরকম অবস্থায় বেনাপোল সহ শার্শা উপজেলার গনপরিবহন সাধারন যানবাহন চলাচলের ওপর পুরোপুরি নিশেধাজ্ঞা বহাল থাকায় এই জনপদের সর্বত্র ব্যবসা বানিজ্য চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি, নাগরিক সুবিধাদী বঞ্চিত হওয়া সহ জনজীবনে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো গত বছর এই জনপদের মানুষের জন্য সরকার সহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ত্রান সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তার দেখা এ যাবৎ পাওয়া যায়নি। এমনকি পুটলী খাবার দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়ার লোকগুলোকেও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বেনাপোল থেকে যশোর শহর, বেনাপোল থেকে কাশিপুর চৌগাছা, নাভারন থেকে সাতক্ষীরা, ঝিকরগাছা থেকে বাকড়া এসব আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সাধারন যাত্রীবাহি বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি সেচের স্যালো মেশিন দিয়ে তৈরী নছিমন, করিমন, আলম সাধু, পঙ্খীরাজ এরকম অনেক নিবন্ধন বিহীন যান সড়কগুলোতে মালামাল সহ যাত্রীও পরিবহন করত সেগুলোও ঠিকমত চলতে পারছে না।

ফলে এই পরিবহন সেক্টরের সকল চালক হেলপার তথা শ্রমিক পরিবারে একদিকে যেমন নেমে এসেছে বিপর্যয় তেমনি এগুলোর ওপর নির্ভর করে যাদের অঞ্চল ভিত্তিক কাঁচামাল সহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা ছিল সেখানেও চলছে চরম অচলাবস্থা। আর গনমানুষতো পায়ে হাটা ছাড়া চলতে পারছে না। এই এলাকায় বিশেষ করে বেনাপোলে কোন মেডিকেল হাসপাতাল না থাকায় দুরের শহর যশোরে চিকিৎসার জন্যে জটিল রোগিদের নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বলতে হয় দেশে করোনার দ্বিতীয় ডেউ চলাকালেও এলাকাবাসি গভির হতাশার সঙ্গে লক্ষ করছে এই জনপদে করোনা আক্রান্ত কিংবা উপসর্গে পতিত কারো জীবানু পরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা নেই। যশোর শহর থেকে আরো ৮ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে জীবানু পরীক্ষা করাতে যাওয়া হেটে হেটে কি কারো পক্ষে যাওয়া সম্ভব ?

এবিষয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে বেনাপোল পৌরসভা, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ, বেনাপোল কাস্টমস হাউজ, বেনাপোল স্থল বন্দর, বেনাপোল পোর্ট থানা, শার্শা মডেল থানা সহ সরকারী বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই জনপদের পুরোপুরি বেকার হয়ে যাওয়া গন পরিবহন চালক তথা শ্রমিক, ইজিবাইক ভ্যান চালক সহ সকল শ্রেনী পেশার সাধারন দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহকারী তথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের সাহায্যের জন্যে এখনও পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি।

বেনাপোল পৌরসভা ও বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ ঈদ এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ত্রান সামগ্রী ও নগদ অর্থ অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করবে এমনটা জানা গেলেও এই একটি মাস এই জনপদের বেকার হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষগুলো চলছে কিভাবে ?

এদিকে গত মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল থেকে ভারতে আটকে পড়া যে সব পাসপোর্টযাত্রী বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে ফিরে আসছেন তাদের অনেককেই এখন বেনাপোলে জায়গা না হওয়াতে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের অন্য সব জেলাগুলোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা নাগাদ গত এক সপ্তাহে প্রায় ১১ শতাধিক নারী পুরুষ শিশু ফিরে এসেছেন। যাদের ৫ শতাধিক বেনাপোল পৌর এলাকার মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

সাধারন মানুষের জন্যে সরকারী সহযোগিতার সম্পর্কে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজা এর কাছে তার মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, বেনাপোল সহ শার্শা উপজেলার সকল ইউনিয়ন থেকে অসহয় মানুষদের জন্যে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী দ্রুতই ত্রান সহায়তা ও নগদ অর্থ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here