বেনাপোলে কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের অনেকেই জটিল রোগী, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্যে স্থানান্তর প্রয়োজন

0
33

বেনাপোল প্রতিনিধি
গত এক বছর আগে করোনা রোগের কারনে প্রথম দফা লকডাউনের সময় থেকে ভারতে ট্যুরিষ্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট যাত্রী বন্ধ রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন সকল রকম ভিসা স্থগীত থাকার পর ভারত সরকার বাংলাদেশের জন্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, কুটনীতি, সাংবাদিকতা এরকম কিছু পেশা ভিত্তিক ভিসা সীমিত আকারে দেওয়া শুরু করে। সেই মোতাবেক বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু লোক ভারতে যাতায়াত করছে। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফা লকডাউনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত ভিসায় ভারতে যেয়ে যে সব বাংলাদেশের পাসপোর্ট যাত্রী আটকা পড়েছেন তারা এখন ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতি পত্র নিয়ে ফিরে আসছেন। আসার পরই তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। যাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচেছ তাদের মধ্যে কিছু যাত্রী রয়েছেন যারা চিকিৎসা ভিসায় ভারতে চিকিৎসার জন্যই গিয়েছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা খুবই কম।
গত ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে যারা এপর্যন্ত ফিরে এসেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৫ শত যাত্রীকে বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের সংখ্যাগরিষ্ট চিকিৎসা ভিসার পাসপোর্ট যাত্রী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আবার কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীও আছেন। কিন্তু এই সকল জটিল রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর তাদের দেখ ভালের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। কিন্তু তা থাকা তো দুরের কথা সাধারন চিকিৎসকও নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে ৫ শতাধিক যাত্রীকে বেনাপোল স্থল বন্দর এলাকার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে বলা চলে; তারা দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিভিন্ন হোটেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এদের সংখ্যা গরিষ্ট যেহেতু চিকিৎসার জন্যে ভারতে গিয়েছিলেন ফলে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থান নিয়মিত পরীক্ষা করা খুবই জরুরী।
আবার যখন ভারত থেকে পাসপোর্টযাত্রীরা ফিরে আসছেন এবং ইমিগ্রেশন এর অভ্যন্তরে স্থানান্তরের অপেক্ষায় অবস্থান করছেন তখন তাদের সাস্থ্যের অবস্থা পরীক্ষা নিরীক্ষার দায়িত্বে যে চিকিৎসকবৃন্দ নিয়োজিত থাকছেন তারা আসেন ১২ কিলোমিটার দুরবর্তী নাভারনস্থ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। এদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার ইউসুফ আলী, ডাক্তার সোহাগ আলী, ডাক্তার আজিম উদ্দিন প্রমুখ।
বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ছড়িয়ে থাকা কোয়ারেন্টাইনের পাসপোর্টযাত্রীদের একজন বিশ্বনাথ ভট্রাচার্য (৬৫; পাসপোর্ট নং বি আর ০৯৮৭০৮৪) আছেন সীমান্ত ঘেষা নিশাধ হোটেলে। তিনি বলেন আমার বয়স পয়ষট্টি বছর। আমার চোখ অপারেশন করে এসেছি । আমার অবস্থা মোটেও ভাল না। ডায়াবেটিস এর সমস্যাও রয়েছে। এরকম জটিল অবস্থায় এই বৃদ্ধ বয়সে এখানে কোয়ারেন্টাইনে থাকায় আমি আরো বিপদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। একই হোটেলে অবস্থানরত আরো একজন যাত্রী আমির হামজা (২৮; পাসপোর্ট নং ইবি-০৯০২৭৪৭) বাড়ি কুস্টিয়া জেলায়। লোকটি অন্ধ প্রতিবন্ধী। তিনি বলেন আমি অচল মানুষ। এখানে থাকায় এই পবিত্র রমজানে সিয়াম সাধনা করতে পারছি না। সেই সাথে নামাজ আদায়ও স্বাভাবিক ভাবে করার সুযোগ পাচ্ছি না। খাওয়া দাওয়ার ব্যপারেও বেশ কস্ট পেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছি। একই হোটেলে থাকা নারানগঞ্জের রুহুল আমিন (৩৮; পাসপোর্ট নং এ -০০২৪২৯১৭) বলেন আমার ৪ বছরের কন্যার রক্তের প্লেটলেজ কমে গেছে। একজন স্বাভাবিক মানুষের রক্তের প্লাজমা থাকে দেড় লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ। আর আমার মেয়ের আছে মাত্র ৪ হাজার প্লাজমা। এরকম চরম দুরবস্থার মধ্যেই আমি এখানে মেয়েকে নিয়ে রয়েছি যে কোন সময় বড় ধরনের বিপদে পড়ে যেতে পারি। এই মুহুর্তে দরকার আমার মেয়ের জন্যে উন্নত চিকিৎসার জায়গায় নিয়ে যাওয়া।
কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের সম্পর্কে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাক্তার ইউসুফ আলী এই প্রতিবেদকের কাছে মোবাইল ফোনে বলেন, যে সব জটিল রোগী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের অবস্থা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনে উচ্চতর চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ আছে এরকম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here