ধানের শীষ সাদা হয়ে যাওয়া চাষিদের ক্ষেত পরিদর্শন করলেন বাঘারপাড়া উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা

0
46

এস.এম মুসতাইন, বসুন্দিয়া
বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ দক্ষিন বিলে গত আট-দশ বছর ধরে কোন ফসল হয় না। চারি পাশে মৎস্য ঘের কেটে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতি বছর জলাবদ্ধতায় পরিনত হয়ে বাদা-জঙ্গলে ভরে থাকে। চলতি বছর অনাবৃষ্টির কারনে বিল শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, কয়েকজন কৃষক পড়ে থাকা পতিত জমি পরিস্কার পরিছন্ন করে উদ্ধোগ নেই ইরি-বোরো আবাদ করার জন্য।
সফল হয়ে ছিলেন সকল চাষিরা, নিয়োতির খেলা ধানের শীষ বেরোনোর মুর্হুতে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় হঠাৎ কাল-বৈশাখীর গরম বাতাসে ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত ঠিক হয়ে গেলেও কিছু কিছু জমিতে ফলন হয়নি, হাউ-হুতাশ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
কথা হয় বারভাগ গ্রামের আকরাম আলী সরদার, লিয়াকত আলী সরদার, বসুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, বারভাগ গ্রামের ইমরান হোসেন সহ আরো অনেকে সাংবাদিকদের বলেন, পতিত জমি পরিস্কার করে ইরি-বোরো চাষ করেছি কিন্তু ধানে অনেক চিটা হয়ে গেছে।
লোকসানের ঘান টানতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে, ক্ষতি গ্রস্তদের উপর সরকার নজর দিলে আবার মাথা উচু করে চাষ করতে পারবে। এ সমস্ত চাষিদের প্রতি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বা নেক নজর না পেলে আর হয়তো ঘুরে দাড়াতে সক্ষম হবে না।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের কর্ণপাত করার পর গত ২ মে রোববার বাঘারপাড়া উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা বাবু বিজন কুমার ও বাবু কল্লোল কুমার হালদার সরোজমিনে দেখতে আসেন এবং কৃষকদের নিয়ে মত বিনিময় করেন।
এ সময় বসুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক কর্মকর্তাদের বলেন, সে পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দা কিন্তু তার গ্রামে চাষবাসের কোন জমি নেই যারফলে জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ বিলে মৎস্য ঘের সহ ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাকে কোন প্রকার সরকারি সহযোগিতা থেকে দুরে ঠেলে দেন। বিষয়টি বাঘারপাড় উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে যান।
গত ইরি-বোরো মৌসুমের সরকারি বীজ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় দুই তিন বিঘা জমি চাষের মত ধান তিনি পেয়ে মহা খুশিতে চাষ করেছেন। তারপরও কিছু সমাজ পতি মানুষের সমালোচনার পাত্র হলেও চক্ষুশুল তাদের কাছে। চলতি বোরো মৌসুমে দুই বিঘা জমির ধানে চিটা পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন তিনি।
এরকম বহু চাষি এ বছর লোকসানের ঘানিতে পড়ে আছেন তাই সরকারের পৃষ্টপোষকতায় উর্ধ্বতন কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here