চলচ্চিত্রের কবিকে শতবর্ষের প্রণাম

0
24

নাসির উদ্দীন ইউসুফ
বয়স আমার কত হবে? বড়জোর এগারো! ১৯৬১ সাল। আমার প্রথম সত্যজিৎ দর্শন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকা শহরের নানা স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছিল সেই দিন। আমাদের পুরানা পল্টনে বন্ধু বেবীর বড়ভাই কাজী নূরুদ্দীন জাহাঙ্গীর, সে সময়ের ডাকসাঁইটে রেডিও অভিনয়শিল্পী, আয়োজন করলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’র প্রদর্শনী।
সেই কৈশোরে সত্যজিৎ তখনও আমাদের কাছে অপরিচিত। এমনকি বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’ পড়ার বয়সও হয়নি আমার। পড়েছি আরও পরে, যখন দশম শ্রেণির ছাত্র। তখন পুরানা পল্টন ও পল্টন লাইন মিলিয়ে গোটা শতেক পরিবারের বসবাস। মাত্র দু’বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়েছে এ মহল্লায়। প্রদর্শনী হবে বেবীদের টিনের বাড়ির বড় আঙিনায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শো শুরু হবে। সবার মধ্যে, বিশেষ করে কিশোর ও যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা। তখন মাগরিবের আজান বা অন্য ওয়াক্তের নামাজের জন্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হতো না। সুতরাং নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান করা যেত।
সকাল থেকে আমাদের নাওয়াখাওয়া নেই। যদিও সব ব্যবস্থা বড়রাই করছেন, তবু কেন জানি আমরাও ব্যস্ত। বড়পর্দা বাঁশের কাঠামোয় লাগানো হলো। পর্দা থেকে খানিক দূরে লম্ব্বালম্বি একটা কালো যন্ত্র, ওপরে বড় বড় চাকার মতো লোহার খাঁচা বসানো হলো। শীতের সন্ধ্যা টুপ করে আমাদের পল্টনে নেমে এলে আমরা দ্রুত আলো-আঁধারে পরিবারের বড়দের সঙ্গে দর্শকের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজেদের জায়গা করে নিই। খোলা নীল আকাশের নিচে সাদা পর্দায় অকস্মাৎ ছায়া নড়ে ওঠে। ‘পথের পাঁচালী’ তো সে বয়সে পড়ার কথা নয়। কিন্তু অগ্রজ প্রায় সবারই পড়া। তাই এলাকার অগ্রজ প্রায় সবাই রুদ্ধশ্বাসে ছবি দেখতে থাকেন। আমিও আমার বড় বোন বেবী আপার পাশে বসে অবাক হয়ে রুপালি পর্দায় দেবদূতের মতো মানুষগুলোকে দেখতে থাকি।
ছবির মোহনীয় যাত্রার কিছু সময় অতিক্রান্ত হতে অপু ও দুর্গার সঙ্গে আমার একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক হয়ে যায়। এরই মধ্যে দুর্গাকে মা সর্বজয়া শাসনের দৃশ্যে চুল ধরে মারতে থাকলে আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠি। আশপাশের বড়রা বিরক্ত হন। সমবয়সীরা হেসে ওঠে। প্রদর্শনীর ছন্দপতন হয় বৈকি। কিন্তু আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। কান্না চলতে থাকে। বড় আপা আমার মুখ চেপে ধরে বুকের সঙ্গে আমার মাথাটা চেপে ধরেন। যাক, এ কিস্তিতে পরিবারের মানসম্মান রক্ষা হলো। কিন্তু যখন দুর্গার মৃত্যু হলো, তখন আমার তীব্র ও উচ্চকিত কান্নায় শো প- হওয়ার উপক্রম। চারদিকে শোরগোল। দর্শক-শ্রোতা নানাপ্রকার বিরক্তিসূচক শব্দ করতে থাকলে আপা আমাকে নিয়ে প্রদর্শনী মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু আমার কান্না থামতেই চায় না। নিজেকে অপুর স্থলে স্থাপন করে বোন দুর্গার জন্য সজোরে রোদন করতে করতে বাসার দিকে বোনের হাত ধরে রওনা দিই।
সেদিন উত্তীর্ণ সন্ধ্যার পল্টনের আকাশ এক কিশোরের ভালোবাসা ও মমতার কান্নায় নিশ্চয়ই ভারি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আমি জানি না, সত্যজিৎ রায় আমার কান্না শুনেছিলেন কিনা! কিন্তু আমার সঙ্গে সেই সন্ধ্যায় ‘পথের পাঁচালী’র স্রষ্টা সত্যজিতের একটা সম্পর্ক হয়ে যায়। আমি পরবর্তী জীবনে তার সৃষ্টিশীল কর্মের এক মুগ্ধ রসগ্রহীতা হয়ে পড়ি। ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’ – এ ত্রয়ী চলচ্চিত্র সৃষ্টির মধ্যদিয়ে সত্যজিৎ রায় বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের যে নবজাগরণ ঘটান, কার্যত সেই-ই শুরু ভারতীয় চলচ্চিত্রের। অপু ট্রিলজি দিয়ে বিশ্ব জয় করলেন সত্যজিৎ। ‘পথের পাঁচালী’ ১৯৫৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ‘মানবিক দলিল’ হিসেবে খ্যাতি পেল। শুধু ‘পথের পাঁচালী’ই ১১টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনেছিল বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। সেই প্রথম বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্ব চলচ্চিত্র ভুবনে ঠাঁই করে নিল।
যে পরিমিতিবোধ ও সুষমায় ঔপনিবেশ ভারতের নিস্তরঙ্গ জীবন অপু ট্রিলজিতে সত্যজিৎ রায় দৃশ্যকাব্যে রূপান্তরিত করেছেন, তা বিশ্ব চলচ্চিত্রে প্রায় অনুপস্থিত। বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ ইতালীয় পরিচালক ভিত্তোরিও দে সিকার অমর চলচ্চিত্র ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’ সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ভাবনার অনুপ্রেরণা। তবে তিনি ভারতীয় সমাজ বাস্তবতার সফল শিল্প উন্মোচন ঘটান ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের বিমূর্ততা ও নীরবতার দৃশ্যকাব্য সেলুলয়েডে রচনা করে। তাই তার চলচ্চিত্রে আখ্যান-উপাখ্যানের সংযোজন ঘটতে থাকে ধীরলয়ে, যা একই সঙ্গে লিরিক্যাল ও কাঠামো-সংশ্নেষণ। কাব্যের দৃশমান শরীর ও ধ্বনি একই সঙ্গে তার প্রায় সব ছবিতেই সংহত। যদিও তার সমালোচকরা বলেন, সত্যজিৎ ভারতের গরিবি বিক্রি করেছেন বিশ্ব সমাজে। এদের মধ্যে ভারতীয় অভিনেত্রী নার্গিস প্রধানতম ব্যক্তি।
কিন্তু না। পশ্চিমের যন্ত্রসভ্যতার উল্লম্ম্ফন ও বিত্ত-বৈভবের উৎকট প্রকাশের বিপরীতে ভারতীয় সমাজ জীবনের কষ্টার্জিত সৌন্দর্যের যে বিপুল পৃথিবী সত্যজিৎ উপহার দিয়েছেন, এই সমালোচকরা তা বুঝতে সক্ষম হননি।
এক্ষণে সত্যজিৎকে নিয়ে বিশ্ববরেণ্য জাপানি নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়ার মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য- তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে মানব জাতির যে অভিনব উপস্থাপন সত্যজিৎ দেখিয়েছেন, তা এককথায় অনবদ্য। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি একজন বড় মাপের মানুষ। তার ছবি না দেখার অর্থ হলো পৃথিবীতে বাস করেও চাঁদ কিংবা সূর্যের উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত না থাকা!’
সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’কে বহমান এক নদীর সঙ্গে তুলনা করে ‘রশোমন’সহ সমীহ জাগানিয়া বিভিন্ন চলচ্চিত্রের এই নির্মাতা বলেন, ‘এটি এমনই এক ছবি যা দেখলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও ব্যাপকতার মধ্যে হারিয়ে যেতে হবে। এমন ছিমছাম পদ্ধতিতে বিশালতাকে ধরতে পারা কেবল সত্যজিতের পক্ষেই সম্ভব। ‘
মার্কিন চলচ্চিত্রকার মার্টিন স্করসেসির মতে, সত্যজিৎ হলেন পশ্চিমার চোখে ভারত ও ভারতীয় সংস্কৃতির রূপকার। বিশ্বের দরবারে ভারতীয় গ্রামীণ জীবন এতটা মূর্ত হয়ে ওঠেনি সত্যজিতের আগে।
রায়ের প্রায় সব চলচ্চিত্র এমন চলন-কথন, আঙ্গিক-কাঠামো, সংগীত-সংলাপ ও এমন সুর তাল লয়ে বাঁধা যে, বিষয়ের নির্যাস শুষে নিয়ে তা স্বতন্ত্র একটি শিল্পভাষা হয়ে দাঁড়ায়। তার সৃষ্ট ৩৭টি চলচ্চিত্র নিজস্ব বৈশিষ্ট্যিক ভাষায় বাঙ্ময়। অপু ট্রিলজির পর সত্যজিৎ একের পর এক চলচ্চিত্র সৃষ্টি করে সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলেন। প্রথম ছবি তৈরির মাত্র পাঁচ বছরের মধ্য অর্থাৎ ১৯৬০ সালের মধ্যে সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করে ফেলেন আরও পাঁচটি চলচ্চিত্র। নির্মাণ করেন ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’-এর পাশাপাশি ‘পরশ পাথর’, ‘জলসাঘর’ ও ‘দেবী’র মতো চলচ্চিত্র।
‘জলসাঘর’ উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক ভারতের ক্ষয়িষুষ্ণ সামন্ত শক্তি ও সংস্কৃতির পরাজয় এবং যন্ত্র সভ্যতার আগ্রাসনে পরাজিত সামন্তপ্রভুর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অহমিকার এক অনবদ্য সাংগীতিক সৃষ্টি। অনেকের মতে, এটি রায়ের সেরা কাজ।
‘দেবী’তে যে সত্যজিৎকে আমরা পাই, সে এক বিদ্রোহী আধুনিক সত্তা। সামন্ত সংস্কৃতির মূল ধর্মীয় কুসংস্কারের অসারতা প্রকাশিত হয় সত্যজিতের এই চিত্রভাষ্যে। যুগন্ধর অভিনেতা উৎপল দত্ত ‘বিদ্রোহী সত্যজিৎ’ প্রবন্ধে লিখেছেন- আমার হিসেবে ‘দেবী’ একটি বিপ্লবী চলচ্চিত্র। আজ পর্যন্ত এদেশে যত ছবি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচন্ড, আপসহীন এবং সুদূরপ্রসারী। এখানে শিল্পী হেঁচকা টান মেরেছেন মনের সবচেয়ে গভীরে রোপিত ও রক্ষিত মূলটি-ধর্ম-ধরে।
ইতিহাসের সাঁঝবাতির জীবন ফেলে সত্যজিৎ যখন তাকান ঔপনিবেশিক সভ্যতার শহর কলকাতার জীবনপানে, তখন ‘মহানগর’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সীমাবদ্ধ’ ও ‘জনঅরণ্য’র মতো সূক্ষ্ণ অনুভবের ছবি আমরা পেয়ে যাই। যে ছবিতে ক্ষয়িষুষ্ণ মূল্যবোধ ও যন্ত্রের আগ্রাসনে প্রায় ভঙ্গুর জীবন কাঠামোর ভেতর ব্যক্তির অবস্থান খোঁজার এক সফল শৈল্পিক প্রয়াস আমাদের মধ্যবিত্ত অস্তিত্বে আঘাত হানে।
আবার ‘চারুলতা’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘নায়কে’র মতো অননুকরণীয় চলচ্চিত্রগুলো আলাদা আলাদাভাবে একাকিত্ব, নৈঃসঙ্গ্য, ফাঁপা জীবন নিয়ে করুণ রস সঞ্চারের পাশাপাশি সমাজব্যবস্থার অসারতা ও ব্যক্তির অসহায়তার নিপুণ চলচ্চিত্রায়ণ। আমার কাছে সত্যজিৎ রায়ের সেরা শিল্পকর্ম ‘চারুলতা’। নৈঃসঙ্গ্যের এমন ভয়াবহ অথচ সংগীতময় এবং ছন্দোবদ্ধ করাল চলচ্চিত্র প্রায় দুষ্প্রাপ্য। এত নিস্তরঙ্গ, গাঢ় ও ঘন সময় সেলুলয়েডে থমকে গিয়ে ক্রন্দনরত, আমি আগে কখনও দেখিনি। আমার বিবেচনায় কুরোসোয়ার ‘রশোমন’, ভিত্তোরিও দে সিকার ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’, ইঙ্গমার বার্গম্যানের ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ চলচ্চিত্রের ধ্রুপদি যুগের সেরা চতুষ্টয়।
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ এবং ‘হীরক রাজার দেশে’ হাস্যরস, ঠাট্টা ও উপহাসের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের অসংগতি নিয়ে তীব্র কশাঘাত। শিশু-কিশোরদের প্রিয় সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের সারল্য ও আনন্দ যেন এই চলচ্চিত্র দুটিতে উপচে পড়েছে। কিন্তু তা নিরেট বিনোদন নয়। বরং তা তীব্র কশাঘাত চলমান সমাজ ও রাষ্ট্র নৃপতিদের ওপর।
সত্যজিৎ রায়ের জীবনের শেষ তিনটি চলচ্চিত্র ‘গণশত্রু’, ‘শাখাপ্রশাখা’ ও ‘আগন্তুক’ নিয়ে সমালোচকরা সমালোচনায় উচ্চকিত- ‘অসুস্থতা সত্যজিতের সৃষ্টিশীলতা কেড়ে নিয়েছে। শারীরিক বাধার কারণে ধীর থেকে ধীরলয়ে প্রায় একই সমান্তরালে ক্যামেরার অবস্থান রেখে সত্যজিৎ বিষয়নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে আগের মতো সতেজ নন। ‘
কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে যে বিষয়গুলো, গল্প বা ভাবনাগুলো সেলুলয়েডে উৎকীর্ণ করতে চেয়েছেন, আমার মতে তা এই আঙ্গিক, গতি ও প্রয়োগই দাবি রাখে। কেননা ততদিনে ‘পথের পাঁচালী’র গ্রামবাংলার বিস্মিত বালক কিশোর অপু, ‘জলসাঘরে’র বিশ্বম্ভর বাবুর সাঁঝবাতির জীবন আলোয়, ‘চারুলতা’র নিঃসঙ্গতা স্পর্শ করে পৌঁছে গেছে ‘আগন্তুক’ মনোমোহনের ভুবনে। যে ভুবনে জীবনের বিশ্বাসের কথা জমা আছে এবং তাই বলেছেন সত্যজিৎ রায় একবুক সাহস নিয়ে। দুঃসাহস তো বটেই। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রধানতম পুরুষ সত্যজিৎ রায়ের শেষ চলচ্চিত্রে ‘আগন্তুক’ মনোমোহন মিত্র যে কথাগুলো নাটকীয় ভঙ্গিতে সুধীন্দ্র বোসকে বলেন তা যে সত্যজিতেরই বিশ্বাসের কথা, তা বুঝতে আমাদের কষ্ট হয় না, প্রণম্য সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃত বাক্যটি পাঠ করলে- ‘আমার নিজের অনুভূতি হচ্ছে, মানুষই ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে। অবশ্য প্রাণের শুরুর ব্যাপারটা নিয়ে রহস্য আছেই, কিন্তু আমার মনে হয় ঈশ্বর তেমন কিছু একটা ব্যাপার নয়- যাতে আমি বিশ্বাস করতে পারি-। ‘
যে শৈল্পিক অভিযাত্রায় সত্যজিৎ রায় বিশ্ব চলচ্চিত্র সম্ভারকে তার ফুলে-ফসলে ভরপুর করেছেন, তার নান্দনিক প্রয়োগ ও কৌশল নিয়ে এ স্বল্প পরিসরে বলা সম্ভব হলো না।
সেলুলয়েডের ফ্রেমে চরিত্রের অবস্থান, তার ওপর আলো ও ছায়ার আনুপাতিক সম্পাত, সংলাপ প্রক্ষেপণের জাদু, সময়ের গতিকে গাঢ় ও গভীর নিস্তরঙ্গ করে চিত্রকলার পরিবেশ তৈরি, সংগীতের অসীমতায় রৈখিক চিত্রের প্রাণদান ও সর্বোপরি সম্পাদনার ছন্দোবদ্ধ কারুকাজে শিল্পের সব দাবি পূরণ করে একটি ছায়াছবিকে পূর্ণতাদানের কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনার দাবি রাখে। এজন্য যে, সত্যজিৎকে চিনতে হলে তার চলচ্চিত্রভাবনা ও সৃষ্টির সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি নন্দনতত্ত্বের কারিগরি প্রয়োগের কৌশলগুলো আলোচনা জরুরি।
আজ এই মহান চলচ্চিত্রকারের জন্মশতবর্ষে আমার এ ক্ষুদ্র প্রণতি।
লেখক: নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক এবং মুক্তিযোদ্ধা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here