মুনিয়াকে ২য়বার হত্যা করা হচ্ছে

0
46

মুনিয়া অল্প বয়সী একজন মেয়ে। যার আবার মা বাবা নেই। বলার অপেক্ষা রাখেনা, আমরা বাস করছি লোভ লালসার নহরের মধ্যে। আমাদের সমাজে কে লোভের পিছনে ছুটছে না!এমনকি আমাদের সন্তানেরা শিক্ষকতা ছেড়ে পুলিশের সিপাইয়ের চাকরি নিলে, আমরা তাকে বুদ্ধিমান বলে প্রসংশা করি। শিক্ষক, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবী-আরও নাম বলতে অপারগ সহ প্রায় সকল পেশার মানুষ আজ লোভের আগুনে পুড়ছে। আজকাল মেয়েরা মনের মতো শপিং করাকে বলছে নারী স্বাধীনতা। ঘরে ঘরে সন্তানরা মা বাবাকে প্রায় অস্বীকার করছে। নারী স্বাধীনতার এটাই মানে মেয়েদের শেখানো হচ্ছে। পাশের বাড়ির মানুষ মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করলেও আমরা তার মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি। সামাজিকভাবে সকল মানুষকে পরিকল্পিতভাবে আমরা ঠেলে দিচ্ছি উদ্দেশ্যহীন ভোগবাদী নষ্ট জীবনে। সন্তানের চোখের সামনে একজন বাবা হয়ে উঠছেন লোভী দুর্বৃত্ত। একদিকে ক্ষুদার্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে কিছু মানুষের সম্পদের পাহাড় তৈরি হচ্ছে। এবং সে সম্পদের উৎস সরাসরি লুটপাট ছাড়া আর কিছু নয়। সম্পদশালী দুর্বৃত্ত মানুষের বিবেক বিবেচনা বলতে কিছুই থাকেনা। (অন্তত আমাদের অভিজ্ঞতা তাই বলে) উল্টো তারা নিজেদের ভোগের আয়োজন সাজিয়ে তোলে নানাভাবে নানান রঙ্গে রসিয়ে রসয়ে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভোগবাদী জীবনে নারী ধর্ষণ-নারী নির্যাতন একটা প্রধান অনুষঙ্গ। স্বাভাবিককারণেই সেখানে পরিকল্পিতভাবে নারীদের প্রকৃত মানুষ হওয়ার পথ বন্ধ ক’রে দেওয়া হয়। মানসিকভাবে অপরিণত নারী খুব সহজেই ভোগবাদের শিকারে পরিণত হয়। তার জ্বলন্ত প্রমাণ মুনিয়া। তাই নারীসমাজ সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ধ্বংস করে দেওয়ার সমস্ত রাস্তাই খোলা থাকে, খুলে দেওয়া হয় এবং আমাদের দেশ নারী সমাজের জন্য একটা নরক বানিয়ে তোলা হয়েছে। নারী সমাজের ধ্বংসের উপর টিকে থাকে পুরুষতান্ত্রিকতা-পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। আমরা এখানে নারী পাচার এবং মাদক ব্যবসার কথা উল্লেখ করতে পারি। মাদকাসক্ত সমাজের প্রধান শিকার হয় যুব সমাজ, এবং এর পুরো ভোগান্তি নেমে আসে নারী সমাজের উপর। এরকম একটা কদর্য নিষ্ঠুর সমজের অভিভাবকহীন অপরিণত বয়সী মেয়ে মুনিয়া। জীবন কাকে বলে কেউ কোনোদিন ওর সামনে হয়তো বলেইনি। এবং ও হয়তো তা জানেও না। তাছাড়া আমাদের সমাজে উচ্চাকাঙ্খী নয় কে?এটাতো ঠিক, আমরা এখন সেই পথকে মোক্ষম মনে করি, যে পথে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়। আশ্চর্য লাগছে এই ভেবে, যারা সমস্ত রকম চোরাপথকে উপরে ওঠার পবিত্র সিড়ি মনে করে, সেই শ্রেণির কিছু অবিবেচক ভ-, মুনিয়ার জীবনযাপনের ধরণ নিয়ে অত্যন্ত নির্লজ্জ ভাবে অবলীলায় কথা বলে যাচ্ছেন। কথায় বলে “যতো বড় মুখ নয় ততো বড় কথা।” এতে আরও প্রমাণ হয়, সমাজটা নষ্ট মানুষদের চুড়ান্ত নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অবশ্য আমাদের কিছু মিডিয়া হাউজও প্রমাণ করেছে, সমাজে মনুষ্যত্ব বলে আর কিছু নেই। যখন মুনিয়া হত্যার বিচার চাওয়া দরকার দলেবলে সকলে, তখন যে মুনিয়াদের দায়িত্ব সমাজ নেয়নি, মুনিয়ার কথা ভাবাটা যারা সময়ের অপচয় মনে করে, সেই তারাই মুনিয়াকে নিয়ে মেতে উঠেছেন কদর্য আলোচনায়। কেউ কেউ আবার পরামর্শও দিচ্ছেন নারী সমাজের কীভাবে চলা উচিত। বলার অপেক্ষা রাখেনা, এই কতিপয় অবিবেচক প্রাণীরাই প্রতিমুহূর্তে মুনিয়াদের হত্যা করছে এবং মুনিয়াদের ধ্বংসাত্মক জীবনে ঠেলে দিচ্ছে। সমাজের প্রতিজন মানুষেরই যখন মুনিয়া হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দরকার, তখন মুনিয়া হত্যাকা-ে অযাচিতভাবে নাক গলাচ্ছেন এই সব আখের গোছানো প্রণী বিশেষ। এবং তা তারা করছে নিজেদের ভবিষ্যত বিবেচনা করেই। কিন্তু আমরা যারা অভিভাবক, আমাদের মুনিয়া হত্যাকারীদের দিকে আঙ্গুল তুলতেই হবে। কারণ কে বলতে পারে, আবার কোন্ আনভির-আবার কোন্ মুনিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। সমাজের স্তরে স্তরে আনভিররাই তো আজ শক্তির প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছে। তাছাড়া আনভিরদের পুজারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here