বেনাপোলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা পাসপোর্ট যাত্রীদের দেখাশোনার জন্য কোন চিকিৎসক স্বাস্থ্য কর্মী নেই !

0
71

বেনাপোল প্রতিনিধি
ভারতে করোনা রোগ মহামারি রূপ নেওয়ায় ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার গত রোববার ২৫ এপ্রিল ভারতের সাথে স্থল পথে উভয় দেশের মধ্যে পাসপোর্ট ধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষনা করে দেয়। যার প্রেক্ষিতে গত সোমবার সারাদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে কোন যাত্রী যাতায়াত হয়নি। তবে উভয় দেশে অবস্থিত স্ব-স্ব হাইকমিশনের বিশেষ অনুমতি পত্র প্রাপ্ত হয়ে মঙ্গলবার থেকে উভয় দেশের মধ্যে এই বন্দর দিয়ে যাত্রী যাতায়াত চলছে। তবে ভারত থেকে আগত যাত্রীদের নিজ খরচায় বাধ্যতামুলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু যে সব জায়গায় এই তিন দিনে আগত পাসপোর্ট যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্য বিধি মানা কিংবা শরীরের অবস্থান বুঝে সুচিকিৎসা প্রদানের তেমন কোন বন্দবস্ত নেই। অর্থাৎ তাদের দেখ ভালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। যা এক ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা বটে।


এদিকে গত মঙ্গল ও বুধবার দুদিনে ভারত থেকে পাসপোর্ট যাত্রী ফিরে এসেছে ৪৪৮ জন। আর ভারতীয় নাগরিক এই দুদিনে ফিরে গেছে ৫০ জন। তবে এই দু’দিনে যে যাত্রীরা ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে মঙ্গলবার ২ জন ও বুধবার ১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রী ফেরত এসেছে প্রায় ২ শতাধিক। আর ফেরত গেছে ৫৫ জনের মত । তবে আজ যারা প্রত্যবর্তন করেছে তাদের মধ্যে তিনজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। যারা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার একই পরিবারের বিপ্লব রায়, পঞ্চনন রায় ও লাবনী রায়।
এদিকে গত তিনদিন যাবৎ ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে বেনাপোলে বিভিন্ন হোটেল স্কুল কমিউনিটি সেন্টারে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর কাজে সবচেয়ে বেশী তৎপর ভুমিকা পালন করছেন শার্শা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) রাসনা শারমীন মিথি। একই সাথে তৎপর রয়েছেন নাভারন সার্কেল সহকারী পুলিশ কমিশনার জুয়েল ইমরান। সেই সাথে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান, ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব ও মুজিবুর রহমান, বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টার রাশিদা খাতুন সহ ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীবৃন্দ ভোর থেকে রাত ১০টা ১১টা অব্দি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তবে এই বন্দর দিয়ে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্বাভাবিক পন্থায় পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকলেও উভয় দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি বানিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। দিনে কমপক্ষে ঁকাঁচামাল সহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে দুই শতাধিক ভারতীয় ট্রাক ঢুকছে। আর বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক রফতানি পণ্য বাহী যান ভারতে ঢুকছে। কিন্তু গত ২৪ এপ্রিল নাগাদ ভারতে তীব্র অক্সিজেন সংকট এর প্রেক্ষাপটে সেদেশের সরকার অক্সিজেন রফতানি এর ওপর নিশেধাজ্ঞা দেওয়ায় এই বন্দর দিয়ে এ কয়দিন আর কোন অক্সিজেন বাহী যান ঢোকেনি। এদিকে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হচ্ছে যে সকল ভারতীয় পণ্য বাহী যান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাদের চালক ও হেলপারদের যথাযথ ভাবে স্বাস্থ্য বিধির নিয়ন্ত্রনে আনা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here