‘১৪ দিনের নিচে কোয়ারেন্টিন হয় না’

0
60

জাকিয়া আহমেদ
বিদেশফেরতদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছিল সরকার। তবে চাপ সামলাতে না পেরে এই সময়সীমা ১৪ দিনের বদলে তিনদিন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, তিনদিনের কোয়ারেন্টিন বলে কিছু নেই। করোনাভাইরাসের জীবাণু শরীরে ঢোকার পর তা নিশ্চিহ্ন হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ লাগে। এর মধ্যে উপসর্গ থাকতে পারে, আবার নাও পারে।

১৪-২১ দিন হলো ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড। এই সময়ের মধ্যে সংক্রমিত মানুষকে আলাদা রাখা হলে তিনি ভাইরাস ছড়াতে পারবেন না। তাই ১৪ দিনের কম কোয়ারেন্টিনে থেকে লাভ নেই। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।

তিনদিনের কোয়ারেন্টিন কোনওভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। তার মতে, কোয়ারেন্টিন ১৪ দিনের হওয়া উচিত। পৃথিবীর সবদেশেই এ নিয়ে কড়াকড়ি আছে। আমাদেরও কড়া হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই মন্তব্য করেছেন কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান। ‘যেখানে ট্রিপল মিউটেটেড ভাইরাস পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া গেছে, সেখানে বাংলাদেশের সীমান্ত সিল করা এবং কোয়ারেন্টিনের কোনও বিকল্প নেই।’ আক্ষেপ করে ডা. ইকবাল আরও বলেন, ‘কোয়ারেন্টিন কতোদিন হবে সেটা নির্ধারণ করছে প্রসাশন। অপেক্ষায় আছি, কোভিডের চিকিৎসা পদ্ধতিও কবে তারা ঠিক করে দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো না হলে সংক্রমণের যে চাপ পড়বে সেটা সহ্য করার ক্ষমতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নেই।’

‘অন্যদের থেকে এখন কোয়ারেন্টিন এবং আইসোলেশনের সংজ্ঞা আমাদের শিখতে হবে’ জানিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ চিন্ময় দাস বলেন, সংক্রামক আইনে সবকিছুর দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের। অন্য কারও নয়।’

আফ্রিকা থেকে কেউ আসলে তাকে ইয়োলো ফিভারের টিকা দেওয়ার কার্ড রাখতে হয়। এই টিকাকার্ড না থাকলে তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড পর্যন্ত। এখানেও তাই করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন চিন্ময় দাস।

‘কোন বৈজ্ঞানিক সূত্র থেকে প্রশাসন তিনদিনের কোয়ারেন্টিন নির্ধারণ করলেন সেটা তারাই বলতে পারবেন।’ বলেন চিন্ময় দাস। তার মতে, এটা বিভ্রান্তি বাড়াবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের কথা বলা হয়েছে। ২১ দিন হলে আরও ভালো হয়। এমন মন্তব্য করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন।

তবে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নয়নে এটাই একমাত্র সমাধান নয় মন্তব্য করে ডা. মুশতাক বলেন, ‘দেশের ভেতরে কোয়ারেন্টিনের বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সব গাদাগাদি করে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে ঘুরছে, কেনাকাটা করছে। দেশের ভেতর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেবল বিদেশফেরতদের নিয়ে থাকলেও তো হবে না।’
এদিকে ১৪ দিনের কম কোয়ারেন্টিন হয় না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

তিনি বলেন, কোনও মানুষের কোয়ারেন্টিন করতে হলে সেটা হতে হবে ১৪ দিন। এর নিচে কোয়ারেন্টিন সম্ভব নয়।

যদিও কোয়ারেন্টিন পালন করানোর জন্য কেবলমাত্র স্বাস্থ্য অধিদফতর একমাত্র অধিদফতর নয়, এখানে আরও অনেক অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য তার।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, যদি আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টিকে দেখতে চাই, তাহলে আমাদের উচিত হবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন যেন নিশ্চিত হয়। আর এটা যদি কোনও প্রতিষ্ঠানে হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো। সেটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম কোয়ারেন্টিন যেন সবাই কঠোরভাবে পালন করে সে বিষয়ে সকলকে আহ্বান করা হচ্ছে।

কারণ পাশের দেশ ভারতে যেখানে বেঙ্গল ভ্যারিয়েন্ট চলে এসেছে, সেটা অত্যন্ত মারাত্মক এবং ৩০০শত গুণ বেশি ক্ষমতা চারিদিকে সংক্রমণ করার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here